চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১

‘চলন্ত সিঁড়িতে টাকা দিলে এমপিওর জন্য নয় কেন?’

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৪ ১২:১৩:০৩ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৪ ১২:১৮:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক,

 প্রকাশিত : 2018-01-04 //18:14:14
 

সাড়াদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলন্ত সিঁড়ি করতে টাকা বরাদ্দ দেয়া গেলে শিক্ষকদের এমপিও সুবিধা দিতে কেন টাকা বরাদ্দ দেয়া যাবে না-সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।

কর্মসূচির পঞ্চমদিন বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের দেখতে গিয়ে এ প্রশ্ন তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও বিভাগের অধ্যাপক হামিদুল হক।

এই শিক্ষক বলেন, ‘১৬৩ স্কুলে চলন্ত সিড়ির জন্য সরকারের ১১১৬ কোটি টাকা আছে। কিন্তু পাঁচ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য ৯৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয় না। এটা কেমন কথা?’

২০১০ সালের পর আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি করা হয়নি অর্থ সংকটের কথা বলে। এই সুবিধার বাইরে থাকা শিক্ষকদের এমপিও সুবিধা দিতে কত টাকা লাগবে, সে হিসাব অবশ্য নেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে। তবে একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বলছে বছরে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা হলেই চলবে।

আর এই টাকা বরাদ্দের দাবিতে টানা পাঁচ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রবিবার থেকে অনশন শুরু করেন শিক্ষকরা। আর গত দুই দিনে মোট ৬৭ জন শিক্ষকক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

অনশনের পঞ্চম দিন বামপন্থী নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনশনকারী শিক্ষকদের পাশে দিয়ে সংহতি জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলন্ত সিঁড়ি তৈরি করতে প্রায় এক হাজার দুইশ কোটি টাকার যে বরাদ্দ রেখেছে তার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, এই টাকা দেয়া গেলে শিক্ষকদের এমপির জন্যও টাকা দেয়া যাবে।

আওয়ামী লীগের শরিক সাম্যবাদী দলের নেতা ও মহাজোট সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

দীলিপ বড়ুয়া বলেন, ‘দেশে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। সেখানে শিক্ষকদের দাবি পুরণে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা কোন ব্যাপার না।’

শিক্ষকদের মতো বামপন্থী এই নেতাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছেন। তিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্নেহময়ী জননীর মতো, তিনি শিক্ষকদের প্রতি সহনীয় হবেন। অচিরেই তাদের অনশন ভাঙাবেন বলেও আশা করি।’

সংহতি জানাতে যাওয়া আছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদও প্রশ্ন রাখেন কেন শিক্ষকদের জন্য টাকা থাকবে না। তিনি বলেন,‘সরকার অর্থ পাচার হলে বলে তুচ্ছ টাকা, আর শিক্ষকদের বেলায় বলেন টাকা নাই।’‘সরকারি লোকদের গাড়ি, বাড়ি, বিদেশ ভ্রমণে যেই পরিমাণ টাকা ব্যয় করা হয়। সেই পরিমাণ টাকা শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজন হবে না।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, ২০১০ সালে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। সেই সিদ্ধান্ত ভাঙ্গার দায় দায়িত্ব কে নেবে? অর্থ মন্ত্রণালয়, সরকারের টাকা বলে কিছু নাই সবই জনগণের টাকা।

কর্মসূচির তৃতীয় দিন মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও শিক্ষকরা তাতে আশ্বস্ত হননি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সেদিন বিদেশ যাওয়ার আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে ফিরে তিনি অর্থের ব্যবস্থা করবেন।’ তবে শিক্ষকরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা চাইছেন। তারা বলছেন, এর আগে ২৬ বার আন্দোলনে নেমে এ রকম আশ্বাস শুনেছেন তারা। তাই এবার সরকার প্রধানের মুখের কথা ছাড়া আস্থা নেই তাদের।

ট্যাগ :