চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জন্য সরকারের সহায়তা চায় পরিবার

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১০ ১৩:২৯:৪০ || আপডেট: ২০১৮-০১-১০ ১৩:৩১:১৯

সিটিজি নিউজ ডেস্ক:
প্রকাশ: ২০১৮-০১-১০//১৯:১৪:১১

 

ফাইল ছবি

হাসপাতালে থাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর চিকিৎসায় সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইছে তার পরিবার।

গত ৭ ডিসেম্বর বাড়িতে বাথরুমে পড়ে যাওয়ার পর থেকে অসুস্থ ৭০ বছর বয়সী এই মুক্তি সংগ্রামী; বিএসএমএমইউ হয়ে তিনি এখন ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার ল্যাবএইড হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ছেলে কারু তিতাস বলেন, “আমাদের যা ছিল, তা দিয়ে এতদিন সাধ্যমতো চিকিৎসা চালিয়ে গেছি। কিন্তু ডাক্তার বলেছেন আরও বেশ কিছুদিন তার চিকিৎসা প্রয়োজন।

“আমরা অর্থ সহযোগিতার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর আবেদনও করেছি।”

তার চিকিৎসক অধ্যাপক আমজাদ জানিয়েছেন, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, হাইপো থাইরয়েডসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

তার মেয়ে ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী জানান, গত ৭ নভেম্বর বাসার বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ের গোড়ালির হাড় সরে গিয়েছিল তার মায়ের। পরদিন ল্যাবএইডে ভর্তি করা হলে সেখানে তার তিন বার হার্ট অ্যাটাক হয়। প্রথমে অস্থায়ীভাবে এবং পরে ১২ নভেম্বর স্থায়ীভাবে পেসমেকার বসানো হয় হৃদযন্ত্রে।

এরপর ১০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পায়ে অস্ত্রোপচারের সময় আবার হার্ট অ্যাটাক হয় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর। এ কারণে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে আইসিইউতে ছিলেন তিনি।

২০ ডিসেম্বর তাকে বাড়িতে আনার পরে শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে ফের ল্যাবএইডে ভর্তি করা হয়।

ডা. আমজাদ বলেন, “দুই মাস ধরে চিকিৎসা চলছে। গতকাল মেডিকেল বোর্ড বসেছিল। এথন উনার মৃত্যুশঙ্কা নেই। তবে আরও তিন থেকে ছয় মাস তার শারীরিক অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করব। আর এ সময় তার দেখাশোনা করার জন্য একজন ফিজিও থেরাপিস্ট ও একজন নার্স আবশ্যক।”

১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জন্ম। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দেয়। এর আগে ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক পান।

২০১৪ সালে একুশের বইমেলায় তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘নিন্দিত নন্দন’ প্রকাশিত হয়।

 

ট্যাগ :