চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ চোরের মায়ের বড় গলা

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৮ ১২:১৪:২৮ || আপডেট: ২০১৮-০১-২৮ ১২:১৬:১২

প্রকাশ : ২০১৮-০১-২৮//০৬:০২:১১

হিন্দু ধর্মালম্বীদের মহাভারতে লেখা আছে দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ করেছিল দুর্যোধন, দু:শাসন এবং তাদের ভ্রাতাগণ। দ্রৌপদীর আর্ত চিৎকারে সেদিন আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছিল। দ্রৌপদীর স্বামী পঞ্চ পাণ্ডবেরা সেদিন নীরবে দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ দৃশ্য অবলোকন করেছিল কারণ তারা ছিল পরাজিত ও অক্ষম। দুর্যোধন, দু:শাসনদের বিরুদ্ধে তাদের কিছুই করার কিছুই ছিল না। হয়তো হর্ষধ্বনি দিয়েছিল লাখো জনতা। এই দুর্যোধন, দু:শাসনেরা শুধু মহাভারত নামক মহাকাব্যের পাতায় নয় এদের উপস্থিতি যুগে যুগে, প্রাগৈতিহাসিক থেকে মধ্যযুগ ও এই আধুনিক ডিজিটাল যুগেও।মধ্যযুগে যুদ্ধক্ষেত্রে জয় পরাজয় যে পক্ষেরই হোক-এর প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী হতো নারীরা। ধর্ষিত হত নারীরা, নির্যাতিত হতো নারীরা কারণ তারা গণিমতের মাল! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংঘটিত হামলার শিকার শ্রবণা শফিক দীপ্তি এখন আলোচিত কারন এই কাহিনী মূলত তার বস্রহরণ নিয়ে। পুরো দেশবাসী জানেন গত ২৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেদিন কি ঘটেছিলো। সেদিন গত ২৩ জানুয়ারী বামদল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ভিসিকে অবরূদ্ধ করে রেখেছে খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে উপাচার্যকে উদ্ধার করে। সেখানেই শায়লাসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেত্রী বাম সংগঠনের নারী নেত্রী শ্রবণা শফিক দীপ্তিকে বিবস্ত্র করে পেটান। যার স্থির চিত্র ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সেদিন দ্রৌপদী চরিত্রের শ্রবণা শফিক দীপ্তির আর্ত চিৎকারে কেউ সাড়া দেয়নি। মিডিয়া এঘটনাটি প্রচার না করলে হয়তো আমরা কখনই তা জানতেই পারতাম না কারন সেখানে হামলাকারীদের হাত থেকে মিডিয়া কর্মীরাও রেহাই পাইনি। এদিকে ঘটনায় সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম সংগঠনের ওপর ছাত্রলীগের এই হামলার ঘটনায় অবশ্য হামলাকারী মেয়ে শায়লার ভুমিকায় কোনো দোষ দেখছেন না তার মা সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী ও কলেজ শিক্ষক শাহনাজ বেগম শম্পা। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে তা সত্যি নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। ওই ঘটনায় তার মেয়ে শায়লা আহত হয়েছেন দাবি করে শম্পা জানান, তার মেয়ে গত ডিসেম্বর মাসে ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন।

তার এপেনডিক অপারেশন হয়েছে সেখানে। এরপর থেকে শায়লা এখনো সুস্থ হতে পারেননি। সেদিনের ঘটনায় শায়লা গেলেও বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা উল্টো শায়লাকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শায়লা বর্তমানে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এতে এটাই স্পষ্ঠ যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী বাম সংগঠনের ছাত্র ছাত্রীদের ওপর হামলাকারী শ্রাবন্তী শায়লাকে দোষী ভাবেন না এই মা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক এ সভাপতি সেদিনের হামলাকারী বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদিক শ্রাবন্তী শায়লার মা শাহনাজ বেগম শম্পা। তিনি গণমাধ্যমে বাম সংগঠনের এক নারী নেত্রীকে পিটিয়ে বিবস্ত্র করার যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে,তার প্রতিবাদও জানিয়েছেন। প্রতিবাদের ভাষা তিনি বলেছেন গণমাধ্যমে যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তা সত্য নয়। শায়লা ওই নারীর সম্ভ্রমহানি নয়, বরং তাকে ওড়না দিয়ে রক্ষা করতে গেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালানোর দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শ্রাবন্তী শায়লার নাম দেশজুড়ে আলোচিত হওয়ার পরেও তিনি মেয়ের পক্ষে সাফাই গাইলেন এটা চোরের মায়ের বড় গলা নয় কি ? তিনি হামলাকারী তার মেয়েজে দুর্দান্ত দাবী করে বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ১৯৯১-৯৪ পর্যন্ত তাপসী রাবেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আমার কর্তাও আওয়ামী লীগ সমর্থক। শায়লা মূলত আমাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েই রাজনীতি শুরু করে। ছোট থেকে দুর্দান্ত ও মেধাবী শায়লা। ২০১৪ সালে রাজশাহী কলেজে পড়াশুনা করার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়ে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরও ছাত্রলীগের সাথে রয়েছে। বর্তমানে সে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবন্তী শায়লা বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সরদহ থানা পাড়া এলাকায়। দুই ভাই বোনের মধ্যে শায়লা বড়। ২০১২ সালে সরদহ সরকারি পাইলট স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন শায়লা। এরপর ২০১৪ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। উল্লেখ্য, ২৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী ঢাবিতে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’ করা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচারসহ চার দফা দাবি নিয়ে গিয়েছিলেন। তারা উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে উপাচার্যকে উদ্ধার করে। সেখানেই শায়লাসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেত্রী বাম সংগঠনের এক নারী নেত্রীকে বিবস্ত্র করে পেটান। যার স্থির চিত্র ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সুব্রত কুমার নাথ লেখক : সাংবাদিক

ট্যাগ :