চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০

রাজনীতি ও দল

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০১ ১৬:২০:১৫ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০১ ১৬:২০:১৫

জাতীয় রাজনীতি ও দলীয় রাজনীতি কী করছে আর কী হচ্ছে সেটাই এখন বেশি বেশি করে ভাবছে সচেতন জনগণ। জনগণ রাজনীতি থেকে বর্তমানে গুণগত কোনো ফল দেখছে না। বাংলাদেশে যেসকল রাজনৈতিক প্রতিষ্টান স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ, জনগণ ও মাটি মানুষের জন্য রাজনীতি করেছিল সেসব দল এখন বলা যায় নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যেসব দল বার বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো তারাও জনগণের সুখে দু:খে দেশ, মাটি, মানুষের পাশে দেখা মিলছে না। ক্ষমতাসীন সরকার ও তার দলের বৈধ অবৈধ কার্যকলাপের পক্ষে বিপক্ষে কোনো আওয়াজ প্রতিবাদ প্রতিরোধ হচ্ছে না। দেশের মাটি মানুষের সুরক্ষা স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা ও আশংকা সবকিছুতেই রাজনৈতিক দলের নিরবতায় জাতিকে এক গভীর আশংকার মধ্যে ফেলছে। ভালো আর মন্দের আলোচনা সমালোচনা দেখছি না।

দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও জোটের অবস্থান আছে। তাদের তৎপরতা দেখছি নির্বাচন কেন্দ্রিক। ক্ষমতাসীন দলের চত্রছায়ায় কতিপয় অখ্যাত দল ও জোট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার মানসে বিশেষ বিশেষ সময়ে তৎপরতা চালাতে দেখা যায়। কিন্তু দেশের ভালো মন্দের পক্ষে কথা বলা বাদ প্রতিবাদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচী জনগণ দেখছে না। তাই জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে দেশে এতগুলো রাজনৈতিক প্রতিষ্টান থাকার পরও ন্যায় অন্যায় ও ভালো মন্দের কোনো কর্মসূচী রাজনৈতিক দলের পক্ষে নেই কেনো? দলগুলো শুধুমাত্র দলের সুবিধা আদায়ের জন্যেই কী আন্দোলন করবে?

নেতা নেত্রীর মুক্তির জন্যেই তাদের আন্দোলন সীমাবদ্ধ। আমজনগণের অধিকার আদায় তাদের সুরক্ষায় রাজনৈতিক দলের দায়িত্বের কথা দলগুলো মনে হয় ভুলে গেছে। এখন রাজনীতি চলছে অফিস আর বাসাভিত্তিক। চা কফি আর নাস্তার টেবিলে কয়েকটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে কিছু আলাপ আলোচনা করে একটা প্রেস রিলিজ দিয়েই রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব শেষ করতে দেখছি। তাহলে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও সুরক্ষায় রাজনৈতিক দলের কী ভূমিকা থাকা চায় সেটা দল ও জোটের নেতারাই ভালো বুঝেন ও জানেন।

আমার বক্তব্য হচ্ছে অন্যদিকে। জনগণ ও দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব সুরক্ষার উদ্দেশ্যে। মানচিত্রের উপর আঘাত আসবে আর রাজনৈতিক দল ও নেতা নেত্রী চুপচাপ থাকবে সেটা রাজনীতির সজ্ঞায় পড়ে না। রাজনীতির উদ্দেশ্য হলো দেশ জনগণের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে কথা বলা। তাদের অধিকার আদায় করা। দেশের রাজনীতি এখন কি সেভাবে চলছে। কেনো চলছে না, কী হয়েছে রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে। অসংখ্য দল ও জোটের দেশে রাজনৈতিক নিরবতায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরী হচ্ছে। দুএকটি দলের তৎপরতা শুধুমাত্র দলীয় দাবি আদায়ের জন্য। জনগণের জন্য তাদের পক্ষে বক্তব্য প্রতিবাদ পাওয়া যাচ্ছে না। নেতা নেত্রীর মুক্তি নির্বাচন আর ক্ষমতায় আরোহনের উদ্দেশ্যে বক্তব্য। ফলে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লক্ষ্যে পৌছতে পারছে না। তাদের দাবি দাওয়ার সাথে জনগণের সম্পর্ক নেই। জনগণ তাদের কর্মসূচীতে সমর্থন দিচ্ছে না। নিজেদের কারণে নিজেরাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। জাতীয় আন্তর্জাতিক অসংখ্য ইস্যু থাকলেও সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচী মিলছে না। জনগণের অসংখ্য অভিযোগ ও উৎকন্ঠার কথা থাকলেও সেখানেও নেতাদের কোনো বক্তব্য বিবৃতি মিলছে না।

আন্তর্জাতিক চক্রান্তের ফসল বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা। এ সমস্যা আন্তর্জাতিক গভীর চক্রান্তের মাধ্যমে তৈরী হয়েছে। প্রায় ১২ লাখের মতো উদ্বাস্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ চরমভাবে বেকায়দায় পড়েছে। আন্তর্জাতিক সকল রীতিনীতি ভঙ্গ করে মায়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মোটেও রাজি হচ্ছে না। রোহিঙ্গারা কতদিন পর্যন্ত উদ্বাস্ত হয়ে বাংলাদেশে থাকবে সে হিসেব আমি বলতে পারব না। তবে তারা বাংলাদেশের মাটি, মানুষ, পরিবেশ ও রাজনীতির জন্য ভয়াবহ ক্যান্সার সে কথায় বলতে হবে।

একজন ক্যান্সার রোগি যেভাবে নিজ এবং পরিবারকে নি:শেষ করে বিদায় নেয়, অনূরূপ রোহিঙ্গা উদ্বাস্ত জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য একটা ক্যান্সার বলা যায়। তাহলে এ বিষয়টা যদি বাংলাদেশের জনগণ বুঝে তাহলে কেনো রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে জাতীয়ভাবে কোনো আন্দোলন হচ্ছে না। এ বিষয়টা দেশের জন্য জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও রাজনৈতিক সবগুলো দল জোট নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশের বর্ডারে কোনো না কোনো সময়ে দেশের নাগরিক অপহরণ, হত্যা, গুম হচ্ছে। বাংলাদেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে বহি: বিশ্বের যুদ্ধবিমান ঢুকে পড়ছে। দেশের জলসীমায় অন্য দেশের জাহাজ প্রবেশ করছে, সেসব সংবাদ দেশের জনগণ দেখছে। এতোসব কিছু ঘটে যাওয়ার পরও রাজনৈতিক দল জোট নেতা নেত্রীদের ঘুম ভাঙছে না। তাহলে আমাদের দেশের রাজনীতির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র কী ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যেই কর্মসূচী? নির্বাচন আসলে ভোটের জন্য জনগণের নিকট ধর্ণা দেয়া, আর অন্য সময় নিরব দর্শকের ভূমিকায় থাকা সেটাতো রাজনীতির কালচার হতে পারে না। এছাড়াও জাতীয়ভাবে প্রশাসনিক ক্ষমতাসীন সরকার ও দলের অসংখ্য দুর্নীতির সংবাদ জনগণ দেখলেও রাজনৈতিক দল সেসব বিষয় নিয়ে কোনো কর্মসূচী দিতে দেখা যাচ্ছে না। বলা যায়, রাজনৈতিক দল ও নেতা নেত্রী বোবা ও অন্ধ জীবনযাপন করছে। এ যদি হয়, তাহলে আগামীতে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম রাজনীতি থেকে কী শিখতে যাচ্ছে অথবা কী শিখবে। ভালো মন্দে জাতীয় আন্তর্জাতিক সমস্যায় রাজনীতির নিরবতায় কী ভবিষৎ বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে সেটাই সকলকে ভোগ করতে হবে।

জাতির ও জাতীয় স্বার্থে সরকার বিরোধী দল ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ধরনের ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় সুদৃঢ় ঐক্য দেখাতে হবে। সেটায় যদি সকলের পক্ষে সম্ভব হয় তবেই দেশ ও জাতির অস্তিত্ব বহাল থাকবে। অন্যতায় গভীর অন্ধকার আর ষড়যন্ত্র জাতির জন্য অপেক্ষা করছে।

লেখক: মাহমুদুল হক আনসারী

ট্যাগ :