চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাক

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৭ ১৬:২৪:২৭ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৭ ১৬:২৪:২৭

অর্থনীতির সবগুলো চাকা আজ সচল। উন্নয়নের ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান। সরকারের উন্নয়ন গতি কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক অবিশ্বাস্য গতিবেগে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বাস্তবে জাতীয় সংসদে (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেট এ অপ্রতিরোধ্য গতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। আমাদের উন্নয়ন নিজেদেরই করতে হবে। মর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে উন্নয়নের বিকল্প নেই।

উন্নয়নকে বাধাবিহীন করতে হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্টানের শুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। পুঁজি বাজারের সংস্কার করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্টান থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ স্বল্প সময়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে ঈর্ষনীয় পর্যায়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। সাফল্যের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। বাস্তবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্টায় এগিয়ে চলছে সোনার বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বৈপ্লবিক যুদ্ধ এখনো অব্যাহত আছে। থাকবেই জন্ম জন্মান্তরে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত। আর এ যুদ্ধ হলো কল্যাণ মঙ্গল ও উন্নয়নের সোনার দেশ গঠনে। একটা চেষ্টা এবং প্রচেষ্টায় ভালো মন্দ সবসময় কিছু না কিছু থাকে। দেশ পরিচালনায় ভুল ত্রু টির উর্ধ্বে কেউ থাকে না। আলোচনা সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে ক্ষমতাসীনদের কাছে। সমালোচনার জন্য তিরষ্কার করা যাবে না। সমালোচনা থেকে ভালো দিকগুলো দেশের উন্নয়নের জন্য গ্রহণ করতে হবে। তবেই রাষ্ট্র সুন্দর সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাবে।

দেশকে এগিয়ে নিতে সমস্ত দল গোষ্ঠী ও সমাজ নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। দেশের অব্যাহত উন্নয়নে জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে অনেকেরই সহ্য হচ্ছে না। সহ্য না হলে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যাবে। কারো চোঁখ রাঙানো দিয়ে এদেশের মানুষের কিছু আসে যায় না। বাংলাদেশের মানুষ আজ উন্নয়ন অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট। সারা পৃথিবী দেশের উন্নয়নে ভূয়সী প্রশংসা করছে। উন্নয়নের গতিধারা দেশ এভাবে চললে অব্যাহত থাকবে। তবে একটা বিষয় আমাদের সতর্ক হতে হবে, দেশ ও জাতির বিরোদ্ধে কিছু কিছু ষড়যন্ত্র সবসময় ছিলো এখনো আছে। এসব ষড়যন্ত্রকে সতর্কতার সাথে মোকাবিলা করে দেশ জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশকে মজবুত কাঠামোর উপর প্রতিষ্টা রাখতে হলে কোটি কোটি শিক্ষিত ও বেকার মানুষের কর্মসংস্থান করতে হবে। তাদেরকে চাকরীর ব্যবস্থা করে বেকারত্ব জীবন থেকে নিজ ও পরিবারকে মুক্তি দিতে হবে। শিক্ষাকে আরো বেগবান করতে হবে। কারিগরী শিক্ষা সম্প্রসারিত করতে হবে। শিক্ষা সমাপ্তির সাথে সাথে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরী করতে হবে। দেশের মেধা পাচার বন্ধ করতে হবে। স্কুল, কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্টানে নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা ও শিক্ষকতার সাথে জড়িতদের দুর্নীতি মুক্ত ও আদর্শিক নৈপূণ্য দেখাতে হবে। জাতীয় আন্তর্জাতিক সমস্যা প্রতিরোধে জাতীয়ভাবে কাউন্সিল গঠন করে মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় সমস্যা মোকাবিলায় ক্ষমতাসীনদের এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। এ অঞ্চলের সব দেশের জন্য রোহিঙ্গা সমস্যা জটিল সমস্যা হিসেবে তৈরী হয়েছে। কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল সমস্যা জিয়ে রাখার ষড়যন্ত্রে¿ লিপ্ত রয়েছে। বার্মা সরকার কথা দিয়ে কথা রাখছে না বাংলাদেশের সাথে। আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বার বার সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করছে। এখনো রোহিঙ্গায় বার্মিজ সৈন্যদের অমানবিক নির্যাতন বন্ধ হয়নি। মায়ানমার সরকার কারো কথায় শুনছে না।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিবেশ রাজনীতির জন্য বিরাট ক্ষতি হতে চলছে। তাদেরকে নির্দিষ্ট ক্যাম্পে ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। ক্যাম্পগুলোতে নিত্যদিন সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংগঠিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা যুবকদের কতিপয় সংগঠন জঙ্গি হয়ে উঠছে। দেশি বিদেশি কিছু এনজিও তাদের উশৃঙ্খল করতে সাহায্য করছে। সাম্প্রতি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে রোহিঙ্গা নাগরিক আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। কোনো অবস্থায় তারা ক্যাম্পে থাকতে চাইছে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানাভাবে তারা ঢুকে পড়ছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। মাদক, চোরাচালানি এবং মানব পাচার হয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে যাচ্ছে। একশ্রেণীর লোক তাদেরকে দেশের নাগরিকত্ব কাগজপত্র ও পাসপোর্ট তৈরীতে সাহায্য করছে। তারা বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই হুমকি হয়ে উঠছে। টেকনাফ কক্সবাজারে স্থানীয় জনগণের বিরোদ্ধে রোহিঙ্গারা ঝগড়াঝাটিতে লিপ্ত হচ্ছে। যেকোনো মূল্যে তাদেরকে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশকে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের সহযোগীতায় এ সমস্যা সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশের মানচিত্র, নদী, সাগর ও বর্ডার রক্ষায় কোনো অবস্থায় মতবিরোধ রাখা চলবে না। দেশের মানচিত্র রক্ষায় সব দল ও শ্রেণী পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মানচিত্রের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় বহি:বিশ্বের সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরোদ্ধে জাতীয় ঐকের বিকল্প নেই।

লেখক: মাহমুদুল হক আনসারী
গবেষক, প্রাবন্ধিক

ট্যাগ :