চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ভারীবর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, জলাবদ্ধ নগরীতে মানুষের চরম দুর্ভোগ

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৮ ১৮:২০:১৩ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৮ ১৮:২০:১৩

এ.এস.রানা: টানা বৃষ্টি হচ্ছিল রাত থেকে, সকালে তুমুল বর্ষণ শুরুর পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে তলিয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন এলাকা। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছপালাও। এতে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কিছু কিছু লোকালয়ে প্রায় ১০-১২ ফুট পানির উচ্চতার খবর পাওয়া গিয়েছে।

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ১৩৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে।

নগরীর প্রায় সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।বেড়েছে জ্যাম। নগরবাসীর ভরসা এখন রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান ও টেম্পো। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে অফিসগামী যাত্রীদের হয়রানি হতে হয়েছে দিনের শুরুতেই। মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভারেও হাঁটু পানি জমে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও বাসাবাড়ি, বাজার সব জায়গায় এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। এই বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী আর জীবিকার তাগিদে পথে নামা মানুষকে যানবাহন না পেয়ে কষ্টে ভুগতে হচ্ছে। কোনো গাড়িতে উঠতে পারলেও যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।তার মধ্য যে গাড়িগুলি পাওয়া যাচ্ছে তা আবার গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

এদিকে রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে যেসব এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে বহদ্দারহাট, ২ নাম্বার গেট, মুরাদপুর, চকবাজার, অক্সিজেন, সল্টগোলা, কমার্স কলেজ এলাকা, প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ রোড, রিয়াজুদ্দিন বাজার, তিন পুলের মাথা, শোলকবহর, বাদুরতলা, ডিসি রোড, মেহেদীবাগ, আগ্রাবাদ, খাতুনগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, হালিশহর ও নয়াবাজার।

প্রধান আবহাওয়া অফিস (চট্টগ্রাম পতেঙ্গা) ডিউটি অ্যাসিসট্যান্ট মাহমুদল আলম বলেন, ‘সোমবার থেকে শুরু চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আজ, কাল মঙ্গলবার ও পরশু বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।’ একই সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।উপকুলীয় এলাকার মানুষ ও মাছ ধরার বোট গুলিয়ে কে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, ভারি বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি জায়গায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মাইকিং করে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়গুলোর পৃষ্ঠ ও পাদদেশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। পাহাড় থেকে প্রায় ৩৬৫টি পরিবারকে সরিয়ে জেলা প্রশাসনের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। অন্যদেরও তারতারি সরিয়ে ফেলার কাজ চলছে।

ট্যাগ :