চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ছাত্র পরিবহন সংকটের নিস্তার চায়

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-২২ ১৮:০২:৩৬ || আপডেট: ২০১৯-০৭-২২ ১৮:০২:৩৬

গণপরিবহন সংকটে গোটা দেশের মানুষ। এ পরিবহনের কোনো শৃঙ্খলা দেখা যায় না। সারাদেশের গণপরিবহনের চিত্র একই রকম। অহরহ নিত্য নৈমিত্তিক দুর্ঘটনায় মূল্যবান জীবন প্রদীপ নিভছে। মালিক, শ্রমিক, হেলপারদের কোনোভাবেই শৃঙ্খলায় আনা যাচ্ছে না। দেশে আইন আছে কিন্তু আইনের কোনো বাস্তবায়ন পর্যাপ্তভাবে নেই। ফলে বেপরোয়া পরিবহন সেক্টর। লাগাম টেনে ধরা এক প্রকার কঠিন বলা যায়।

গণপরিবহনের উপর দেশের প্রায় সব মানুষ কমবেশী নির্ভরশীল। প্রাইভেট পরিবহন স্বল্প সংখ্যক মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে আছে। রাস্তার শৃঙ্খলার অভাবে কেউই সড়কে শান্তি পায় না। প্রতিদিন নানা প্রকারের পরিবহনের আধিক্যতা বাড়ছে। রোড় পারমিট থাক বা না থাক ট্রাফিক পুলিশের টোকেনে হাজার হাজার পরিবহন রাস্তায় চলছে। এসব পুলিশের টোকেন বাণিজ্যের কারণে অনেকটা রোড়ের শৃঙ্খলা প্রতিষ্টা করা অসম্ভব ধরনের। যাদের হাতে সড়কের শৃঙ্খলা থাকার কথা তারাই যেহেতু শৃঙ্খলা ভঙ্গের অন্যতম উপলক্ষ সেখানে এ সেক্টরের শৃঙ্খলার কথা হাজার বার বললেও গণ উপকারে আসছে না। বিআরটিএ, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং গণপরিবহনের মধ্যে শৃঙ্খলা আনতে না পারলে কখনো যাত্রী সাধারণ সড়কে শান্তি পাবে না। তাদের জীবন নিরাপদ হবে না। শুধুমাত্র আইন করে নিস্তার পাওয়া সম্ভব নয়।

বেপরোয়া পরিবহন সেক্টরের মধ্যে গোটা জাতি নিমজ্জিত। তবুও দৈনন্দিন জীবন জীবিকার তাগাদায় মানুষকে সড়কে নামতে হয়। গণপরিবহন ছাড়া আম জনগণের কোনো ব্যবস্থা নেই। কর্মজীবি মানুষ, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন গণপরিবহনের সাহায্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। সেখানে কর্মজীবি ব্যবসায়ী মানুষগুলো কোনো কোনো সময় দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছলেও সেক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের বিষয়টা আলাদাভাবে দেখতে হবে। গণপরিবহনে ছাত্রদের কোনো অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা দেখা যায় না। নির্দিষ্ট পথের জন্য ভাড়া পরিশোধ করে ছাত্রছাত্রীদের স্কুল কলেজ করতে হয়। যেতে হয় তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। একটা সময় নিয়ে তারা বাসাবাড়ি থেকে বের হলেও গণপরিবহন সংকটে সঠিক সময়ে শিক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারে না।

সাম্প্রতিক সময়ে নগর ও নগরের বাইরে পরিবহন সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। হঠাৎ করে পর্যাপ্ত পরিমাণ গণপরিবহন সড়ক থেকে হারিয়ে গেছে। আবার কিছু সংখ্যক প্রাইভেট পরিবহনের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব পরিবহনের অনেকের নিকট বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও তারা বিভিন্ন সেক্টরের দায়িত্বশীলদের মেনেজ করে রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছে। এখানে যে বিষয়টি আমি পরিষ্কার করতে চাই সেটি হচ্ছে ছাত্রদের পরিবহন সংকট। সারাদেশের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে এবং তাদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করেই লেখাটা।

হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ছাড়া অন্যরা সকলেই গণপরিবহনে যাতায়াত করে। তাদেরকে নিয়েই লিখতে হচ্ছে। দেখা যায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে, স্টপিজে স্কুলমুখী ছাত্রছাত্রীদের প্রতিদিন পরিবহনের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একটা গাড়ি আসলে ধরতে ছাত্রদের দৌঁড় ঝাঁপ দিয়ে গাড়ি ধরতে হয়। সেসময় অনেকেই আহত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে চোখে পড়ছে। শিক্ষাকেন্দ্র ছুটি হলে তখনও গণপরিবহনের অপেক্ষায় ছাত্রদের দীর্ঘসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কষ্ট ভোগান্তি আর হয়রানির শেষ থাকে না এসব ছোট্ট ছাত্রযুবকদের। তারপর আছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ। অনেকসময় বিভিন্ন পরিবহন ছাত্রদের থেকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করে থাকে।

কথা হচ্ছে ছাত্ররা তো টাকা পয়সা ইনকাম করে না। নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকাই তারা পরিবার থেকে পেয়ে থাকে। সেখানে অতিরিক্ত পরিবহন ও রাস্তার খরচ কীভাবে এসব ছাত্ররা মেনেজ করবে সেখানেই অমানবিক সমস্যা। অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া এবং সংকট ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক উভয়কেই চিন্তায় ফেলেছে। মনে হয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং পরিবহন সেক্টর এসব বিষয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। তাদের মধ্যে এসব বিষয়ের চিন্তা দেখা গেলে নিশ্চয় একটা সমাধানের পথ বের হবে। আর যদি বাস্তবে কর্তৃপক্ষের মাঝে এ বিষয়টি গুরুত্ব না পায় তাহলে ভোগান্তিই থেকে যাবে।

পরিবহনের ভোগান্তি ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবক সংকটে পড়ছে। এর ফলে সারাদেশে স্কুল কলেজের উপস্থিতি হ্রাস পাচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম সঠিক নিয়মে চলতে পারছে না। আগামী দিনের ভবিষৎ তৈরীতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এ পরিবহন সেক্টর। কী নিয়মে কীভাবে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করতে রাস্তার ভোগান্তি দূর করা যায় তা অবশ্যই সকলকেই চিন্তা করা দরকার। অন্যথায় শিক্ষা কার্যক্রম তার গতি হারিয়ে ফেলবে। একজন কৃষক নিয়মাতিরিক্ত পয়সা খরচ করে সামর্থ্যের বাইরে তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে পারে না। সেটাও চিন্তা করতে হবে। সবার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম রাষ্ট্র যেভাবে কর্মসূচী দিয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করতে হলে সেক্ষেত্রে এসব খুটিনাটি বিষয় অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দিতে হবে। ছাত্রদের জন্য স্কুল সময়ে কীভাবে পরিবহন সংকট দূর করা যায় সেটার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। গণপরিবহনে ছাত্রদের ভাড়ার চাপ কমানোর জন্যেও চিন্তা করা দরকার। সবকিছু মিলিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সড়কের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আশা করছে অভিভাবকমহল। সাথে অবশ্যই ছাত্রদের পরিবহণ সংকটের বিষয়টি জাতীয়ভাবে গুরুত্বের মধ্যে আনতে হবে। এ উদ্বোধ পরিস্থিতির সমাধান ও ভোগান্তি হতে নিস্তার চায় দেশের আপামর ছাত্র-ছাত্রী।

লেখক: মাহমুদুল হক আনসারী
গবেষক, প্রাবন্ধিক

ট্যাগ :