চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৭ ১৭:০১:৪৯ || আপডেট: ২০১৯-০৮-০৭ ১৭:০১:৪৯

ঢাকার পর চট্টগ্রামের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু রোগ। গত ৯ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৩ গুণ। পত্রিকার ভাষ্যনুযায়ী প্রতি ঘন্টায় গড়ে ২ জন করে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগির মৃত্যু হলেও এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামের কোথাও কোনো সংবাদ পাওয়া যায় নি। এসব রোগিরা ক্লিনিক ও বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীর সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগির সংখ্যা ৫১ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগির হিসাব পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়।

দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক জন সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে সচেতন মহল এ প্রচারণাকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছে না। সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগের বিনামূল্যে পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে যেভাবে এ রোগ শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে তাতে জনমনে ব্যাপকভাবে ভয়ভীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদকে যেভাবে জন সচেতনতামূলক কর্মসূচী গ্রহণ করা দরকার তা এখনো দেখা যাচ্ছে না। বাস্তবে এ রোগ থেকে জনগণকে রক্ষা করতে হলে ব্যাপকভাবে ঘরে ঘরে পাড়া মহল্লায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা স্তুপ করা থেকে জনগণকে সচেতন করতে হবে।

নগর ও নগরীর বাইরে এখনো মশা নিধনের কর্মসূচী দেখা যাচ্ছে না। ব্যাপকভাবে শহর গ্রামে মশা নিধনের কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। এখনো মশা নিধনের বাস্তব কোনো কর্মসূচী শহর গ্রামে শুরু হয় নি। ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধ ছাড়া কোনো অবস্থায় এ রোগ থেকে জনগণকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। একদিকে জনগণকে সচেতন করতে হবে, অপরদিকে প্রশাসনকে ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সারা দেশে যেভাবে ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়ছে তাতে এটা মহামারী পর্যায়ে চলে যাচ্ছে বলে অনেকেই মন্তব্য করছে। ঢাকাতে এ রোগের বিস্তারের সাথে সাথে সারা দেশে শহর গ্রামে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। কোনো অবস্থায় এটাকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।

প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ রোগের প্রয়োজনীয় মেডিসিন সংগ্রহ ও রোগিদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। মেডিসিনের অভাবে কোনো রোগির চিকিৎসা যেনো ব্যঘাত না ঘটে। সরকারি বেসরকারি সবগুলো হাসপাতালে চিকিৎসা প্রাপ্তি সহজতর করতে হবে। কোনো অবস্থায় ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত করতে অতিরিক্ত টাকা নেয়া যাবে না। রোগিদের পর্যাপ্তভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে জাতির এ ক্রান্তিকালে মানবসেবায় ডেঙ্গু রোগিদের পাশে আসা চায়। কোনো অবস্থায় এসব হাসপাতালে এসব রোগির ভোগান্তি জনগণ মেনে নেবে না। পর্যাপ্তভাবে চিকিৎসা চিকিৎসক ও বেডের ব্যবস্থা রাখতে হবে। রোগি যাতায়াতে পরিবহন ব্যবস্থা যানজটমুক্ত রাখা চায়। রোগির পরিবহন যেনো সড়কে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীল আচরণ জনগণ দেখতে চায়। জাতির মহা এ সংকট সকলের জন্য কঠিন এক মুহুর্ত। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং এ বিভাগের সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারি দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রোগিদের পাশে থাকবেন সেটায় প্রত্যাশা।

সামনে মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় অনুষ্টান ঈদুল আযহা আসছে। এ ঈদে লাখ লাখ পশু কোরবানী হবে। এসব কোরবানীর উচ্ছিষ্ট পরিবেশকে যাতে উগ্র না করে তাও এখন থেকে সমোচিত কর্মসূচী নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে এগোতে হবে। কোরবানীর উচ্ছিষ্ট সাথে সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পুঁতে ফেলা এবং ধ্বংস করার ব্যবস্থা প্রশাসনকে গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় এসব উচ্ছিষ্ট ময়লার মাধ্যমে মশার ব্যাপকতা আরো বৃদ্ধি পাবে। এক কথায় প্রশাসনকে বাস্তব ভিত্তিক কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে জনগণকে সাথে নিয়ে। যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু রোগকে জাতীয়ভাবে প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা কঠোরভাবে গ্রহণ করতে হবে। পাড়া মহল্লা ও ঘরে ঘরে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এখনি এ রোগের প্রতিরোধে কর্মসূচী বাস্তবায়ন জোরদার করতে হবে। তাহলেই সম্ভব হতে পারে আংশকাজনক এ পরিস্থিতির উত্তরণ।

লেখক: মাহমুদুল হক আনসারী
গবেষক, প্রাবন্ধিক

ট্যাগ :