চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১

চট্টগ্রাম বিনির্মাণে ৩২টি সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয় বৈঠকে বসবেন মেয়র

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১০ ১৯:১৯:২৫ || আপডেট: ২০১৯-০৮-১০ ১৯:১৯:২৫

সিটিজি নিউজ: দ্রুত বর্ধনশীল চট্টগ্রাম নগরের জলাশয়, খাল সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা, ১০টি খেলার মাঠ চিহ্নিত করে আধুনিকায়নের মাধ্যমে খেলাধুলা ও বিনোদন স্পটে পরিণত করা, জনচত্ত্বরগুলো সংরক্ষণ করে উপযোগিতা সৃষ্টি করা, যানজট নিরসনে জংশন সমুহের পরিকল্পিত কার্যকারিতা প্রণয়ন, নদী তীরবর্তী অঞ্চলের উন্নয়ন ও ফ্লাইওভারের বহুমাত্রিক ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ ও সমস্যার কৌশলগত সমাধানের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম বিনির্মাণ করতে হবে। এজন্য চট্টগ্রাম নগর নিয়ে সেবাদানকারী সকল সংস্থার সমন্বয়ে একটি স্বকীয় নগর পরিকল্পনা ও দিক নির্দেশনা আজ সময়ের দাবি।

ভৌগলিকত্ব, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম বিনির্মাণে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও শ্রেণি পেশাজীবিদের নিয়ে সমন্বিত বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

বৈঠকে নগর আসনের সাংসদ, চট্টগ্রামের মন্ত্রী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ ৩২টি সেবা সংস্থা প্রতিনিধিগণকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক পর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠান করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে চসিক সম্মেলন কক্ষে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ আর্কিটেকচার এন্ড আরবানিজম “ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম আমাদের করণীয়” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রদর্শন সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের উপস্থিতিতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ আর্কিটেকচার এন্ড আরবানিজম’র নির্বাহি পরিচালক আদনান জিল্লুর মোর্শেদ।

৩২ সংস্থাকে সমন্বিতকরণের ব্যাপারে সিটি মেয়র বলেন, সমন্বয়হীনতার কারণে চট্টগ্রামে উন্নয়ন হলেও তার সুফল জনগণ ভোগ করতে পারছে না। কোন প্রকল্প গ্রহণের আগে সেবা সংস্থাগুলোকে সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বিত করার পরিপত্র থাকলেও তা কেউ মানেনি। সবাই যার যার মত প্রকল্প নিয়ে বাস্তবায়ন করেছে। এই মুহুর্ত থেকে সমন্বয় করা জরুরি।

মেয়র বলেন, ভবিষ্যত চট্টগ্রাম বিনির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সংস্থাগুলোকে সমন্বিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বৈঠক করা হবে।

বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবহিতকরণের লক্ষ্যে পরবর্তীতে মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব পর্যায়ে আরেকটি বৈঠক আয়োজন করা হবে বলেও জানান মেয়র।

বৈঠক করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, সংস্থাকে সমন্বিত করার উদ্যোগ গ্রহণকারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে সমন্বয় বাস্তবায়নে সরকারের অনুমতিই শেষ কথা। সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যত চট্টগ্রাম বিনির্মাণ আন্দোলন সফল হবে না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ সেবা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতকরণে একমাত্র নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

এ ব্যাপারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ আর্কিটেকচার এন্ড আরবানিজম’র নির্বাহি পরিচালক আদনান জিল্লুর মোর্শেদ বলেন, চট্টগ্রাম নগরের ভবিষ্যত নিয়ে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বকে এক টেবিলে আসতে হবে। ভবিষ্যত চট্টগ্রাম বিনির্মাণে বস্তুনিষ্ঠ ও ফলাফলমুখী আলোচনা করা দরকার। বিশ্বের উন্নত নগরগুলোতে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ইমেজকে সামনে রেখে উন্নয়ন করা হয়েছে। এর ফলে নগরগুলো নিজস্ব স্বকীয়তায় উন্নয়ন মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এর জন্য সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমরা কেমন চট্টগ্রাম রেখে যাবো- আমাদের জীবদ্দশায় যদি পরিকল্পিত, উন্নত, স্বকীয় একটি চট্টগ্রামের স্বপ্ন তাদেরকে দেখাতে না পারি তাহলে ব্যর্থতার গ্লানিই বয়ে যেতে হবে আমাদের।

ট্যাগ :