চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মাদকের তৎপরতা বন্ধে তিনভাগে কাজ শুরু হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০২০-০২-০৫ ১৪:৪৩:৫৬ || আপডেট: ২০২০-০২-০৫ ১৪:৪৩:৫৬

এস.ডি.জীবন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশে মাদক নির্মূলে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদক, জঙ্গিবাদ নির্মূলে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে আমাদের র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনী।

বুধবার ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পতেঙ্গা র‌্যাব-৭ সদর দফতর সংলগ্ন এলিট হলে আয়োজিত মাদক ধ্বংস ও মাদকবিরোধী প্রচারণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মাদকের তৎপরতা বন্ধে তিনভাগে কাজ শুরু হয়েছে, কাজ চলছে। মাদক একটি ভয়ংকর নেশা। যিনি একবার এ নেশায় আসক্ত হবেন তিনি আর বের হতে পারেন না। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে মাদক ও জঙ্গিবাদে না জড়ায় সেটি নিয়ে কাজ করছি।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সুন্দরবন একসময় জলদস্যু, বনদস্যুদের অভয়ারণ্য ছিল। কোনো পর্যটক, স্থানীয় জেলে সুন্দরবনে যেতে পারতেন না। কিন্তু র‌্যাবের প্রচেষ্টায় এখন সুন্দরবন জলদস্যুমুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে ইয়াবা প্রবেশের প্রধান রুট কক্সবাজার। সেখানেও র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা কমে এসেছে।

অনুষ্ঠানে পতেঙ্গা এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ১ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী বই বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, মো. হাবিবুর রহমান এমপি, মো. ফরিদুল হক খান এমপি, পীর ফজলুর রহমান এমপি, চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম আবদুল লতিফ, র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. বেনজীর আহমেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান।

এসময় র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। ২০১৮ সালের পর থেকে ১০০ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেছি, ১ হাজার কোটি টাকার অন্যান্য মাদক উদ্ধার করেছি এবং ৪২ হাজার মাদক ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠিয়েছি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের অভিযানের পর মাদকের সহজলভ্যতা কমে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেটা করে তা হলো মাদকের সাপ্লাই কাট করে। কিন্তু দেশে এখন ৬০ লাখের মতো মাদকসেবী। মাদকের ডিমান্ড যদি থাকে তাহলে দেশকে মাদকমুক্ত করা যাবে না। মাদকের ডিমান্ড কমাতে হবে।

ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেইন আটক হয়েছিল। এর সঙ্গে জড়িতরা প্রভাবশালী। কিন্তু তারা রক্ষা পায়নি। র‌্যাব তাদের গ্রেফতার করেছে। এ মামলা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু সরকারের আন্তরিকতার কারণে তা পারেনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ২০১৫ সালে আটক হওয়া এসব কোকেইন এসেছিল সাউথ আমেরিকার একটি দেশ থেকে। এসব কোকেইনের গন্তব্যস্থান বাংলাদেশ ছিল না, এটি বাংলাদেশ হয়ে সাউথ এশিয়ার আরেকটি দেশে যাচ্ছিল। কিন্তু আমরা তা থামিয়ে দিয়েছি।

এসময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারী, বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাসহ র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কমর্কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান র‌্যাব সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপরেশনস) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার।

ট্যাগ :