চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মাইনী নদীর উপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো

প্রকাশ: ২০২০-০২-১১ ১৫:২২:৫০ || আপডেট: ২০২০-০২-১১ ১৫:২২:৫০

আবদুল জলিল, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীর আশপাশের ৫টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। প্রতিবছরই এই সাঁকোটি ভেঙে যায় আর গ্রামবাসীরা মিলে প্রতিবারই হাঁড়ি চাঁদা তুলে পূননির্মাণ করেন। বিগত অনেক বছর থেকে এভাবেই চলছে তাদের দিনের পর দিন। দেখার যেন কেউ নেই।

জানা যায়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া, দীঘিনালা, বোয়ালখালী, কবাখালী ও মেরুং ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে গেছে মাইনী নদী। তবে বিভিন্ন স্থানে ব্রীজ থাকলেও বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়ে মধ্য বোয়ালখালী, তারাবুনিয়া সহ অন্তত ৫ টি গ্রামের মানুষের।

প্রতিবছরই শীত মৌসুমে ওই নদীর উপর গ্রামবাসীরা হাঁড়ি-চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে অত্র এলাকার অন্তত ৫টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পারা পার হয়। তবে বর্ষা মৌসুমে গৃহবন্দী হয়ে যায় আশেপাশের প্রায় ২০ হাজার মানুষ৷

এমনকি আশপাশের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুল কলেজে যাতায়াত করে। ফলে প্রায়ই ঘটে কোন না কোন দুর্ঘটনা। কৃষকেদের কৃষিপণ্য পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসা ওই একটি মাত্র বাঁশের সাঁকো। নইলে অনেক দুর ঘুরে মাটির রাস্তা দিয়ে তাদের যেতে হয়। আশপাশের বিভিন্ন হাট বাজারে যেতে কৃষিপণ্য ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। মধ্য বোয়ালখালী ও তারাবুনিয়া এলাকাবাসীর বহুদিনের দাবী এখানে একটি ব্রিজের।

তারা জানায় একসময় মাইনী নদীর অনেক গভীরতা ছিলো। এখন বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠার কারনে নদীর গভীরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে গৃহবন্দী হয়ে পরছে আশেপাশের প্রায় ৫ টি গ্রামের মানুষ। এখানে একটি ব্রিজ হলে এলাকার উন্নয়ন সহ আশা যাওয়ার সমস্যার সমাধান হবে।

স্থানীয় সন্তু চাকমা বলেন, আমরা প্রতি বছর গ্রামবাসী মিলে চাঁদা তুলে ও সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এ সাঁকোটি তৈরি করি। তবে সরকারী সহায়তায় একটি ব্রিজ হলে ৫/৬ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে।

অপরদিকে সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যেমে সাঁকো তৈরি করতে আসা প্রনয় চাকমা জানান, বিগত অনেক বছর থেকে প্রতিবছরই আমরা সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এখানে সাঁকো তৈরি করি। আমাদের দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে ১ নং মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রহমান কবির রতন জানান, ওখানে একটি ব্রিজ হওয়া দরকার। এতে করে ৪/৫টি গ্রামের মানুষের গ্রাম ও শহরের সাথে খুব সহজেই যোযোগের উন্নয়ন হবে। আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলে অতিদ্রুত একটি ব্রিজের ব্যবস্থা করবো ইনশাল্লাহ।

দীঘিনালা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী জিকো চাকমা জানান, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরেই ওই প্রত্যন্ত এলাকাকে সড়ক, ব্রিজের উন্নয়ন করে শহরে পরিনত করবো যা দৃশ্যমান হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি সরজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

ট্যাগ :