চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১

চকরিয়ায় মহাসড়কে যাত্রীবাহি সৌদিয়া বাসে দূর্ধর্ষ ডাকাতি, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১২

প্রকাশ: ২০২০-১১-২৭ ২০:৩৯:৩১ || আপডেট: ২০২০-১১-২৭ ২০:৩৯:৩১

চকরিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের চকরিয়ায় সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাসে দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ৭-৮ জন সশস্ত্র ডাকাতদল চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী বেশে সৌদিয়া বাসে উঠে চলন্ত বাসের অন্যান্য যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের বেদড়ক মারধর, ছুরিকাঘাত ও গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্ঠি করে। ডাকাত দলের ছুঁড়া গুলি, ছুরিকাঘাত ও বেদম প্রহারে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ আবদুল্লাহ আল মামুনকে (২৭) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি গ্রামের এজাহার আহমদের ছেলে। শুক্রবার ( ২৭ নভেম্বর) ভোর রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ঢালা থেকে খুটাখালীর ফুলছড়ি এলাকা পর্যন্ত চলন্ত বাসে এ দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এছাড়া গুলিবিদ্ধ অপরজনসহ মারধর ও ছুরিকাঘাতে আহতেরা কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস থেকে ৩৩ যাত্রী নিয়ে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাস (চট্টমেট্রো-ব-১১-১১২৫)। পরে গাড়িটি কর্ণফুলি নতুন ব্রীজ এলাক পৌছলে সেখান থেকে ব্যাগ নিয়ে লুঙ্গি পরিহিত ৭-৮ জন যাত্রী উঠে ওই বাসে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাসটি চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ঢালা এলাকায় পৌছলে ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিন্মি করে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

পরে একজন ডাকাত চালকের আসনে বসে গাড়ি চালাতে থাকেন। ডাকাত দলের অপর সদস্যরা চলন্ত বাসে দেশীয় তৈরী কাটা বন্দুক ও চাপাতি ও ছোরার ভয় দেখিয়ে বাসের সব যাত্রীদের মোবাইল ও নগদ টাকাসহ সর্বস্ব কেড়ে নেয়। ভোররাত সাড়ে চারটা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী ডাকাতির পর বাসটি চকরিয়ার সীমান্তবর্তী খুটাখালীর ফুলছড়ি এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। পরে বাসটির চালক গাড়ি চালিয়ে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আহত যাত্রীদের ভর্তি করেন। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

ডাকাতের কবলে পড়ে সর্বস্ব খোয়ানো বাস যাত্রী ও চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন জনি বলেন, ছয় বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তারা চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস থেকে টেকনাফগামী সৌদিয়া পরিবহণের বাসটিতে উঠেন। ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে বাসটি চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ঢালা এলাকায় পৌছলে যাত্রীবেশে ডাকাত দল আমাদের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে ও মারধর করে মোবাইল এবং নগদ টাকাসহ সর্বস্ব কেড়ে নেয়। এ সময় বাধা দেয়ায় চেষ্ঠা করায় দুইজন যাত্রীকে গুলি করে আহত করেন ডাকাত দলের সদস্যরা। তিনি দাবী করেন, ঘন্টাব্যাপী ডাকাতি করে ডাকাত দলের সদস্যরা যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইলসহ আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকার মালামাল হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান মামলার বাদি বিল্লাল হোসেন জনি।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ডাকাতির ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসের যাত্রী ও চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন জনি বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ডাকাত কবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ :