চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১

একটি ব্রীজের জন্য দূর্ভোগে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ

প্রকাশ: ২০২১-০১-০৩ ২৩:৫৭:৪৯ || আপডেট: ২০২১-০১-০৩ ২৩:৫৭:৪৯

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি: : এক ইউনিয়ন হতে অন্য ইউনিয়নের যোগাযোগের মাধ্যম এখন সাকোঁ ছাড়া কোন উপায় নেই। বাশেঁর সাকোঁ দিয়ে পথচারী থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। সাকোঁর দক্ষিণ প্রান্তের লোকজন ও শতশত শিক্ষার্থী বর্ষা মৌসুম এলেই পাঠশালায় যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষা শুরু হলে সাকোঁর দু’পাশে পানিতে ডুবে থাকে। তখনই যাতায়াত করা মোটেই সম্ভব হয় না। শুস্ক মৌসুমে এখানকার শিক্ষার্থীরা পাঠশালা মুখী হন। হাওর এলাকা না হলেও বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকে এ এলাকাটি।

এমন দৃশ্যটি চোখে পড়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের বইদ্যার পাড়া ও লেমশীখালী ইউনিয়নের মতির বাপের পাড়া এলাকায় পিলট কাটা খালের ওপর ময়নার মার সাঁকো।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, লেমশীখালী ও দক্ষিণ ধুরুং দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ উত্তর পাশে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের বইদ্যার পাড়া ,কুতুব শরীফ দরবার, সিকদার পাড়া গ্রাম। লেমশীখালী ইউনিয়নের উত্তর প্রান্তে মতির বাপের পাড়া গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। দূর্গম এলাকা হিসেবে মতির বাপের পাড়া গ্রামে কোন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার গড়ে উঠেনি।

এ গ্রামের সাথে অন্যান্য গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় কোন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাই। মতির বাপের গ্রামের ছেলে মেয়েরা শিক্ষা অর্জনের জন্য দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেতে হয়। তাছাড়া এ গ্রামের মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রয়োজন হলে ঐ গ্রামের লোকজন পিলট কাটা খালের ওপর স্থানীয় লোকজনের উদ্যাগে স্থাপিত বাঁশের সাকোঁ ব্যবহার ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই। মুলত মতির বাপের পাড়ার প্রায় ১৫ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম বাশেঁর সাকোঁটি। এ দূর্দশা দেখে উপজেলা পরিষদ থেকে বীজ নির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাছানো হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ডিজিটাল সময়ে সে যুগের বাঁশের সাকোঁ দিয়ে যাতাযাত চরম ঝুকিপূর্ণ। দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াতে চরম দূভোর্গের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিনে ৬০ মিটার লম্বা ব্রীজ নিমাণের জন্য গত এক জানুয়ারী সয়েল টেষ্ট করা হয়েছে এবং সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে নিশ্চিত করেন। অতি সত্তর এ ব্রিজ নির্মানের জন্য প্রক্কলন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

দক্ষিণ ধুরুং ইউপির চেয়ারম্যান ছৈয়দ আহমদ চৌধূরী বলেন, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের বইদ্যার পাড়া,কুতুব শরীফ দরবার , সিকদার পাড়া এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। এ এলাকায় পূর্ব ধূরুং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কুতুব শরীফ হাফেজ খানা, এবতেদায়ী মাদরাসা, কুতুবদিয়া টেকনিক্যাল কলেজ, দারুল হিকমা আল মালেকিয়া দাখিল মাদরাসা, কয়েকটি কিন্ডার গার্ড়েনসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু মতির বাপের পাড়ার হাজার হাজার জনবসতি থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠায় এ এলাকার পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ঝুকিঁপূর্ণ বাশেঁর সাঁকো দিয়ে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের বদ্যার পাড়া শিক্ষার্থীরা কুতুব শরীফ দরবার এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা সাঁকো দিয়ে যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।

মতির বাপের গ্রামের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, জন্ম থেকে এ বাঁশের সাকোঁর ওপর দিয়ে চলাচল করে আসছি। এ গ্রামে কোন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এলাকার সচেতন মহল বাশেঁর সাকোঁ দিয়ে দক্ষিণ ধুুরুং ইউনিয়নে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। এ অভিশাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাঁশের সাকোঁর পরিবর্তে অতি শীঘ্রই ব্রীজ নির্মাণ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।

লেমশীখালী ইউপির চেয়ারম্যান আকতার হোছাইন জানান, মতির বাপের পাড়ার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন যাতাযাতের ক্ষেত্রে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ বাশেঁর সাকোঁর ওপর সেতু নিমাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রাক্কলন তৈরী করেছে বলে নিশ্চিত করেন।

ট্যাগ :