চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১

দীঘিনালায় ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ

প্রকাশ: ২০২১-০১-০৬ ২৩:৪২:৪৮ || আপডেট: ২০২১-০১-০৬ ২৩:৪২:৪৮

দীঘিনালা প্রতিনিধি:খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় উপজেলায় ছাত্রলীগের দুই-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটনা ঘটেছে।

৬ জানুয়ারী বুধবার দুপুরে উপজেলা কলেজ গেইট সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু স্কোয়ারের পাশে ছাত্রলীগের দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন কর্মী আহত হয়।

দীঘিনালা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মেহেদী আলম অভিযোগ করে বলেন, ১৪ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ হতে দীঘিনালা উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে পদবঞ্চিতরা এ কমিটির বিরোধিতা করে আসছিলো। আজ পদবঞ্চিতরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে মানিক, ইমন শিকদার ও সাংবাদিক নূর হোসেন সহ তিনজন আহত হয়। অপরদিকে বোয়ালখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মান্না মুৎসুদ্দি সাংবাদিক নূর হোসেনের উপরও হামলা চালায়। আহতরা খাগড়াছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এটি উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্দেশে একটি অতর্কিত হামলা।

এবিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে মান্না মুৎসুদ্দি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলামই না। এটি মিথ্যা ও বানোয়াট একটি বক্তব্য। আমি এ সময় আমার নিজ বাসায় দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম। তাছাড়া নূর হোসেন গত ৬ নভেম্বর দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক। আমি ঐ কমিটির সদস্য। সে সাবেক কবাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলো। তবে সে সাংবাদিক এটা আমি জানতাম না।

দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবলু কুমার দে বলেন, গত ৬ নভেম্বর উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্মেলনের তারিখে সম্মেলন না করে বিতর্কিত, অছাত্র ও বিবাহিত লোকজন দিয়ে প্রেস কমিটি করে জেলা ছাত্রলীগ। এ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হলে দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগের কর্মকান্ড স্থগিত করে। আমরা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্তকে সাদরে গ্রহণ করি। কিন্তু আজ বিতর্কিত কমিটির সভাপতি মোঃ মেহেদী আলম, ৬ নভেম্বর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নূর হোসেন ও দীঘিনালা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিকের নেতৃত্বে তার দলবল নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে মোঃ কায়েস, জয়, মহিন সহ আমাদের চার-পাঁচ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহেদ চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। জেলা ছাত্রলীগের পরামর্শক্রমে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দীঘিনালা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন দাশ বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের দু-পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধলে আমরা উভয় পক্ষকেই বাঁধা প্রদান করি। এতে দু’পক্ষের কয়েকজন কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি হয়৷

এদিকে গতকাল রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দীঘিনালা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে সেচ্ছায় পদত্যাগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টাটাস দেয় মোঃ হেলাল।

প্রসঙ্গত: গত ১৪ নভেম্বর দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগ এবং দীঘিনালা সরকারী ডিগ্রী কলেজ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন বিতর্ক সৃষ্টি হয় উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে। এবং এসব বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামীলীগ উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কর্মকান্ড স্থগিত করে।

ট্যাগ :