চট্টগ্রাম, , রোববার, ১ আগস্ট ২০২১

দীর্ঘদিন সরকারে থাকায় সব খাতে উন্নয়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০২১-০২-২৫ ১৫:২৪:০২ || আপডেট: ২০২১-০২-২৫ ১৫:২৪:০২

সিটিজি নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন সরকারে থাকার সুযোগে সব খাতে উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি মেরিন একাডেমির চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে ৫৫তম ক্যাডেটদের ‘মুজিববর্ষ গ্রাজুয়েশন প্যারেড’ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রশিক্ষণার্থী ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্মের কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আমাদের লক্ষ্য। এখানে ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এই একাডেমি থেকে ট্রেনিং নিয়ে দেশ-বিদেশের বিরাট দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছ। তোমাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এটা বড় চ্যালেঞ্জিং পেশা।

তিনি বলেন, আমরা সরকারে আসর পর মেরিন একাডেমির উন্নয়নের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছি। ডিজিটালাইজড করার ব্যবস্থা করেছি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৬৫ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করছি। এই একাডেমিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে যাচ্ছি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে যেন প্রশিক্ষণ দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপথেই অধিকাংশ পণ্য পরিবহন হয়। সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে এ পণ্য পরিবহনের গুরুত্ব অনেক। জাহাজ চলাচলে উচ্চশিক্ষার জন্য বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ একসাথে অর্জন করতে হবে।

‘শৃঙ্খলাবোধ বজায় রেখে কাজ করে দেশের সম্মান বাড়াতে হবে। সমুদ্রে যারা চাকরিরত তারাও বড় রেমিট্যান্স যোদ্ধা। ইঞ্জিন কন্ট্রোল সিমুলেটরের মাধ্যমে এখন থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। মেরিন একাডেমির মাধ্যমে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হচ্ছে। সততা, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা বজায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

দেশের সমুদ্র সীমা আইন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে সমুদ্র সীমা আইন করলেও পঁচাত্তরের পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ, খালেদা জিয়া তাদের কোনো উদ্যোগই ছিলো না। তারা দেশটিকে চিনতো না, জানতোও না।‌ আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, আমরা বিশাল সমুদ্র সীমা অর্জন করেছি। এ সমুদ্র সম্পদ আমরা নিজেদের অর্থনৈতিক কাজেও ব্যবহার করতে পারি। তাছাড়া আমাদের বে অব বেঙ্গল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। বিশ্বের অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য এখান থেকে চলে। তাছাড়া নদীগুলোতে আমরা নাব্যতা ফিরিয়ে এনে দেশের নৌ-পথকে আরও উন্নত, আরও সচল করে দিচ্ছি। যার মাধ্যমে দেশের আভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পণ্য পরিবহন খুব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করা যাবে। সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি।

এসময় স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। আপনার সুরক্ষা অন্যকেও সুরক্ষিত করবে। টিকা দেওয়ার পর এটা কেউ মনে করবেন না যে সমস্যা সব সমাধান হয়ে গেছে।

দেশ প্রধান বলেন, আমরা টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। আমি অনুরোধ করব আপনারা সকলেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিয়ম-নীতি মেনে চলবেন। মাস্ক ব্যবহার করা, হাত পরিষ্কার রাখা একান্তভাবে প্রয়োজন।

‌‌‘‌এটা মনে রাখতে হবে যে, সব সময় মাস্ক পড়তে হবে। নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। আমি আশা করি প্রত্যেকেই সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। বাংলাদেশের মানুষ যেন সব ধরনের স্বাস্থ্য সেবা পায়, আমরা সে চেষ্টা করছি।’

এর আগে মেরিন একাডেমির অ্যাডজুটেন্ট গোলাম মোস্তফা ৫৫তম ব্যাচের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের শপথ পড়ান। ক্যাপ্টেন ও চিফ ক্যাপ্টেনকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে যথাক্রমে মেরিন একাডেমি পদক ও রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক তুলে দেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, নৌ পরিবহন সচিব মেসবাহ উদ্দিন আহমেদসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাগণ।

ট্যাগ :