চট্টগ্রাম, , রোববার, ১ আগস্ট ২০২১

অভিভাবকহীন সড়ক মুরাদপুর-অক্সিজেন

প্রকাশ: ২০১৭-১১-০৮ ১৮:৫৭:৪৮ || আপডেট: ২০১৭-১১-০৮ ১৮:৫৭:৪৮

সিটিজি নিউজ ডেস্ক : মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন মোড়, সাড়ে তিন কিলোমিটারের একটি সড়ক। চট্টগ্রাম শহরের সাথে উত্তর চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির মানুষদের যাতায়াতের প্রধান সড়ক। নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত এখন মরণযন্ত্রণা। চলতি বছরের টানা বর্ষণে পিচ উপড়ানো, ছোট-বড় অসংখ্য গর্তেও সাথে যুক্ত হয়েছে ওয়াসার খোঁড়াখুড়ি। যান চলাচল শুধু ব্যাহত হচ্ছে না, মৃত্যু ঝুঁকিও তৈরী করছে।

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাড়ি গ্যারেজে পাঠাতে হয়। অনেক মালিক বিরক্ত হয়ে গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করতে নিষেধ করেছে। গাড়ি কমায় ভোগান্তিতে গণপরিবহন নির্ভর যাত্রীরা। খোঁড়াখুড়িতে অবিরাম ধূলাবালির কারণে আশপাশের মানুষজনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির সাথে যোগ হয়েছে ব্যবসায়ীদের লোকসান।

হামজারবাগ এলাকার ব্যবসায়ী ইমরান হাসান বলেন, ‘রাস্তার পাশের দোকান হওয়ার যেমন সুবিধা ছিল তেমন অসুবিধায় আছি এখন। অন্য দোকান থেকে সালামীও বেশী, ভাড়াও বেশী। কিন্তু রাস্তার এই অবস্থা হওয়াতে ক্রেতা নেই। অবিরাম লোকসান গুণছি, কখন রাস্তা ঠিক হবে সেই আশায়।’
বলা যায় অভিভাবকহীন এই সড়ক। সিডিএ এই রাস্তা চওড়া ও সংস্কার করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করেছিল। সড়কের মাঝে ডিভাইডার, সড়ক বাতি, দু’পাশে কম-বেশ ফুটপাথ রেখেছিল সিডিএ। কিন্তু চট্টগ্রাম ওয়াসা তাদের পাইপ লাইন বসানোর জন্য অনুমতি নেয় ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত। ওয়াসার কাজও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দাদের জন্য। কিন্তু দৃশ্যত তাদের কাজের গতি সেবার পরিপন্থি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বললেও আজ ওয়াসার এমডি ফোন রিসিভ করেন নি। পাওয়া যায়নি প্রকল্প কর্মকতা প্রকৌশলী আরিফ কেও।

এই সড়কে ওয়াসা তিনটি পাইপ লাইন স্থাপন করবে। এখন চলছে প্রথম লাইনের কাজ। এ ব্যাপারে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ সিপ্লাসকে বলেন, ওয়াসার হাতে ২০১৮ পর্যন্ত সময় আছে। তবে জনদূর্ভোগ বিবেচনায় আমরা বার বার তাগাদা দিয়ে আসছি। আগামী সপ্তাহে আমরা একটা অংশ ঠিক করার কাজ শুরু করবো।

৭ নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, ‘তিন দফা ওয়াসার পাইপ বসানো হবে। মাত্র এক দফা শেষ হয়েছে। কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মেরামতের কাজ দেয়া হয়েছে। আপাতত এক কিলো মিটার সড়ক চলাচলের উপযোগী করা হবে। যে অংশে কাজ করা হবে তাতে আগামী ২০২১’এর আগে কাউকে খোঁড়াখুড়ির সুযোগ দেয়া হবে না বলে মাননীয় মেয়র মহোদয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।’

রাস্তার কোন পাশ মেরামত করবেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘যে এক কিলোমিটার চসিক মেরামত করবে তাও নির্ধারিত একপাশ নয়। কোথাও রাস্তার পূর্বপাশ আবার কোথাও পশ্চিম পাশ। অর্থাৎ যেখানে যে পাশ ওয়াসা খুঁড়েছে সেখানে সে পাশ মেরামত হবে।

চসিক আর ওয়াসার টানাটানিতে বেহাল দশা এই সড়ক ব্যবহারকারীদের। তবে সবাই আশা করছেন অতিদ্রুততম সময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ওয়াসা থেকে রাস্তা বুঝে নিয়ে চলাচল উপযুক্ত করে মানুষের দুর্ভোগের ইতি টানবেন।

ট্যাগ :