চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ মে ২০২১

প্রধানমন্ত্রী কখনো মানুষ চিনতে ভুল করেননি: আতিকুল

প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৮ ১৬:০১:৪৩ || আপডেট: ২০১৭-১২-২৮ ১৬:০১:৪৩

Publish-2017-12-28  22:01:10


ওবায়দুল কাদের নিশ্চিত না করলেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আবারও নিজের নাম জানালেন ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কখনও মানুষ চিনতে ভুল করেননি। আর তিনি তার আস্থার প্রতিদান রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে ফাঁকা হওয়া মেয়র পদ পূরণে উপনির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা হয়নি। এরই মধ্যে প্রার্থী করার বিষয়ে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে।
দুই দলের পক্ষ থেকে কারও নাম জানানো হলেও আতিকুল ইসলাম গত সোমবার গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে সংকেত পেয়ে তিনি ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আর ওবায়দুল কাদের এই তথ্যটি নিশ্চিত না করে মঙ্গলবার ভোটের আগে ‘বাজার যাচাইয়ের’ উদাহরণ দিয়েছেন। তবে পরদিন তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী একজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। মনোনয়ন পেলে জিততে হবে এই কথাটিও বলে দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার আতিকুল ইসলাম কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে উঠে আসে ভোট নিয়ে তার চিন্তা, প্রস্তুতি নগরের উন্নয়নের বিষয়ে ভাবনা।
২০১৫ সালে ঢাকার উত্তর অংশে ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হককে সমর্থন দিয়ে চমকে গিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এবারও তার মৃত্যুতে একইভাবে দলের বাইরে থেকে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী কাউকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জানিয়েছিলেন।
‘ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটিড’ এর কর্ণধার আতিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ছিলেন। তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের বিষয়ে এতদিন কিছু জানা যায়নি। তবে আতিকুল বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে, বিশ্বাস করি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে।’
-ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী একজনকে ডেকে কথা বলেছেন। সেই একজন কি আপনিই?
-এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে আমি আগেও বলেছি, আমি আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছি। তাঁরই ভিত্তিতে নিজের সম্পর্কে যাচাই-বাচাই করার জন্য মাঠে নেমেছি।
-প্রধানমন্ত্রীর সাথে আপনার কি কথা হয়েছে?
-আমি গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছি, এতটুকুই বলতে চাই। তবে বিস্তারিত আমি সময় হলেই সবাইকে জানাব।
-ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে পরিচিত আপনাকেই কেন প্রধানমন্ত্রী বাচাই করলেন?
-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোনদিন মানুষ চিনতে ভুল করেন নাই। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দেশকে যেভাবে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা পৃথিবীর অন্য দেশের কাছে অনুকরণীয়। আমি মনে করি, আনিস ভাই প্রমাণ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও পারে। আমি যদি মনোনয়ন পাই এবং মেয়র নির্বাচিত হই তাহলে কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করে দিতে চাই যে, কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে পছন্দ করেছেন। এ উত্তর তখনই আমি পেয়ে যাব।
-আওয়ামী লীগের অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আছেন। তাদের এবং নেতাকর্মীদের কীভাবে আপনি কাছে টানবেন?
-আমি দলের নীতি নির্ধারণী নেতা এবং মাঠের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তাদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এই দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যখন নির্দেশ আসবে তখন সবাই এখানে একত্রিত হবে। নির্বাচনী হাওয়া বওয়া শুরু হলে সবাই মাঠে নামবে, আমার সাথে রাজনৈতিক কর্মী ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতারাও মাঠে নামবে।
-আপনি ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। সংকেত পেয়ে এখন পর্যন্ত কী করেছেন?
আমি কয়েকটি মতবিনিময় সভায় গিয়েছি। ডিএনসিসির অন্তর্গত কয়েকটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের সাথে কথা বলেছি। সেখানে আমাকে সবাই জিজ্ঞাসা করেছেন আমি কি কোন সংকেত পেয়ে মাঠে নেমেছি কি না। আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই যে, আমি আওয়ামী লীগ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন মনোনয়ন পাইনি। তবে এইটুকু বলতে পারি দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে আমি সবুজ সংকেত পেয়েছি। তারপর আমি মাঠে নেমেছি। মাঠে নেমে আমার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাই আমি।-আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
-আমাকে সবাই আগে বিজিএমইএ সভাপতি হিসাবে আগে দেখেছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্পকে বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হবে। এ জন্য ঢাকাকে সুন্দর বাসযোগ্য নগরী করতে হবে। তবে এটি একটি কঠিন কাজ। আমাদের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক, যিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ডিএনসিসিকে সুন্দর করে সাজিয়েছে। আমি যদি দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাই তাহলে তিনি (আনিসুল হক) জনগণের কাছে যে স্টান্ডার্ড রেখেছেন তার থেকেও বেশি কিছু করতে চাই। আমি তাঁর (আনিসুল হক) পরিকল্পনাগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করছি। এছাড়াও আমি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের সাথে যোগাযোগ করছি। এছাড়াও আমার নিজেরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।
-আপনার কর্মপন্থা কি তৈরি করে ফেলেছেন?
-আমি নতুন ভোটারদের নিয়ে একটি বৈঠক করব, সেখানে তাদের প্রত্যাশা জানতে চাইব। আমি একটা অ্যাপের মাধ্যমেও হতে পারে। সেখানে নতুনদের যে দাবি সর্বোচ্চ থাকবে তাও আমার নির্বাচনী ইশতেহারে রাখব। আমি তাদেরই সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেবো।
-এবার নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীকে…
-আমি যদি দল থেকে মনোনয়ন পাই, তাহলে আমার মার্কা হবে নৌকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে এ দলটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এটা সত্য কথা। গতবার যিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনিও তো আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেয়েছিলেন। তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে হলে, সুন্দর ও স্বপ্নের ঢাকা গড়তে চাইলে নৌকার কোন বিকল্প নাই। তাই সবাইকে নৌকার বিজয়ে কাজ করতে হবে।
-গতবার বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবারও প্রার্থী হতে পারেন। বাংলাদেশে পরাজিত প্রার্থীর পক্ষে মানুষের আবেগ কাজ করে। সেটা মোকাবেলায় কী করবেন?
-নির্বাচনে জয়-পরাজয় আছেই এবং এটাই হওয়া উচিত। আমি বিজিএমইএতে কিন্তু নির্বাচন করেই এসেছি। গতবার নির্বাচনে প্রয়াত আনিস ভাই যে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন. তাঁর সুফল জনগণ পাচ্ছে। যদি না পেতে তাহলে সিমপ্যাথি ভোটের কথা আসত। আমি মনেকরি সিমপ্যাথি থেকেও কাজের ধারাবাহিকতাই বড় কথা।
-ব্যবসায়ী নেতা হিসাবে আপনি সফল, কিন্তু রাজনীতির মাঠ তো আরও কঠিন…
-ভোটের রাজনীতি অসম্ভব কঠিন কাজ, তবে কোন কঠিনই কঠিন না যখন সকলের সম্মিলিত প্রয়াস থাকে। তাই বলে বলে কি আমরা রাজনীতিতে আসবো না? দেশ তো সকলেরই। ব্যবসায়ীরা কি শুধু ব্যবসা করবে? রাজনীতিবিদরা কি ব্যবসায় আসতে পারবে না? ব্যবসা যেমন ফ্রি ইকোনোমি, আমি রাজনীতিটাকে ও রকম মনে করি। রাজনীতিবিদরা যদি ব্যবসা করেন, তাহলে আমরা কেন রাজনীতি করতে পারব না? ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যান। আমাদের জাতির জনক বলেছেন, ‘এ বারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।’ আমরা তো মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করছি।
-আপনি নগরবাসীকে কী চমক দেবেন?
-চমকের কথা এ মুহূর্তে আমি বলতে চাই না। আমি মনে করি আনিস ভাই যে স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন, তা আগে বাস্তবায়ন করব। আমি বিশ্বাস করি, কথা কম কাজ বেশি। আমি যেগুলো বাস্তবায়ন করব তাই আমার ইশতেহারে দেবো।
-আগে কখনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলে?
-আমার রাজনৈতিক কোন ব্যাকগ্রাউন্ড ছিলো না। এখন যদি বলি আমি রাজনীতি করেছি, তবে তা মিথ্যা হয়ে যাবে। তবে আমি ব্যবসায়ীদের রাজনীতি তো করেছি। এখন হলো ভোটের রাজনীতি। সবাইতো এ দেশের জনগণ।

ট্যাগ :