চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

শিক্ষা, শিক্ষক, লেখাপড়া

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-২৭ ১৬:২৭:২৮ || আপডেট: ২০১৯-০৬-২৭ ১৬:২৭:২৮

শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে না। শিক্ষা অর্জন করতে হবে মাতৃভাষা ও আন্তর্জাতিক ভাষা রপ্ত করার মাধ্যমে। মাতৃভাষার সাথে আন্তর্জাতিক ভাষার উপর দক্ষতা ও অনুশীলন না থাকলে বর্তমানে জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে একজন শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার গঠন করতে পারছে না। উচ্চ শিক্ষা অর্জনে দেশের বাইরে যেতে হলে তাকে আন্তর্জাতিক ভাষা পড়তে লিখতে জানতে হয়।

বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষানীতি বহুমুখী শিক্ষায় বিভক্ত। স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি একটি কারিকুলামে চলছে। অন্যদিকে আলিয়া মাদ্রাসায় চলছে আরেকটি শিক্ষা পদ্ধতিতে। এর বাইরে দেশের বৃহৎ একটি গোষ্ঠী কওমি সিলেবাসের মাধ্যমে দেশে হাজার হাজার মাদ্রাসায় সম্পূর্ণ আলাদাভাবে লেখাপড়া করে ছাত্রত্ব ও যৌবন শেষ করছে। কওমি মাদ্রাসার ছাত্র সংখ্যা কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যাবে। চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের আনাচে কানাচে এসব মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। তাদের নিজস্ব মতাদর্শ ও সিলেবাসে প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে। ইবতেদায়ী থেকে দাওরায়ে হাদিস, ফিকাহ, তাফসীর, সাহিত্যসহ অনেক বিভাগ ভিত্তিক শিক্ষা ওইসব মাদ্রাসায় চলে আসছে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অতীতের কোনো সরকার কওমি মাদ্রাসার সনদের কোনো সম্মান ও মান না দিলেও বর্তমান সরকার বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে মূল স্রোতের সাথে সম্পৃক্ত করতে তাদের সনদকে মান দিয়ে সম্মানের জায়গায় মূল্যায়ন করা হয়েছে। কথা হলো একটা জাতির বিভিন্নমুখী শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষার কত প্রকার সিলেবাস হতে পারে, সেটায় পরিষ্কার করতে যাচ্ছি।

একটি পরিবারের কয়েকজন সন্তানের ভিন্ন ভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, আলিয়া, কওমি ইত্যাদি প্রতিষ্টানে শিক্ষার মাধ্যমে পরিবার থেকে বিভাজন আর মত পার্থক্য তৈরী হওয়া শুরু হয়। একজনের বই খাতার সাথে অপরজনের মিল নেই। ব্যাগ, ড্রেস ভিন্ন ভিন্ন। বেতনভাতা তাও প্রচুর তফাৎ। বিদ্যালয়, মাদ্রাসার শিক্ষার গুণগত আচার আচরণও তাদেরকে ভিন্নভাবে বড় করছে। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই একই পরিবারের সন্তানদের মধ্যে বিভাজন ভিন্ন রুচি তৈরী হয়ে যায়। ধর্মীয় শিক্ষায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র বেশভূষ নানামুখী হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা নানা মন মেজাজের হয়ে বড় হয়। সেসব আচার অনুষ্ঠান ও ব্যবহার স্থানীয়, জাতীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনীতির মধ্যে প্রভাব ফেলছে। স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি থেকে যারা পাশ করে বের হয় তাদের মোটা অর্থের চাকরী মিলে। আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা মসজিদ স্কুল পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রের সুযোগ পায়। আর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রীয় কোনো সরকারি আধা সরকারি এমপিও ভুক্ত কোথাও চাকরির সুযোগ হয় না। ফলে এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা আয় ইনকামে দূরত্ব তৈরী হয়। তাদের সামাজিক চলাফেরায় বিভাজন দেখা যায়। এসব কারণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রাপ্তিতেও অবমূল্যায়ন অব্যাহত আছে। এক পরিবারের সন্তানদের নানামুখী শিক্ষা কার্যক্রমের কারণে বিভাজন এটা একেবারে প্রকাশ্য।

কথা হলো সেই বৃটিশ আমল থেকে চলে আসা আমাদের মতো গরিব দেশের এতো প্রকারের শিক্ষা কার্যক্রম কেনো হবে? নীতি নৈতিকতা ধর্মীয় শিক্ষা সংস্কৃতি ঠিক রেখে আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতি সবার জন্য একমুখী করা যাচ্ছে না কেনো? শিক্ষায় সংস্কৃতিতে ধর্মে বিভাজন কেনো আমাদের মধ্যে এখনো চলছে সেখানেই নীতি নির্ধারকদের সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছতে হবে। একজন শিক্ষক সরকারি নিয়ম নীতি মোতাবেক যেসব সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন, অপর একজন একই শিক্ষক একই সার্টিফিকেটধারী কিন্তু তিনি পাবলিক স্কুলের শিক্ষক হওয়ার কারণে বেতন থেকে অনেক সুযোগ সুবিধা তিনি পান না। কেনো এই বিভাজন। শিক্ষা গ্রহণ থেকে শিক্ষক, লেখাপড়া পর্যন্ত সবখানেই সমাজে একটা বিভাজন তৈরী হয়ে আছে। একই জাতি একই মানচিত্রের মানুষের মধ্যে এ ধরনের পার্থক্য চিন্তা চেতনা কখনো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে দাঁড়াতে দেবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক চিন্তা চেতনায় সঠিকভাবে জাতিকে এগিয়ে নিতে শিক্ষানুরাগী মহৎ জ্ঞানীগুণীদের এসব বিষয় চিন্তা গবেষনায় এনে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।

শিক্ষা, শিক্ষক এবং পাঠ পরিক্রমাকে ঢেলে সাজাতে না পারলে জাতির অগ্রগতি ও কাঙ্খিত কল্যাণ পাওয়া যাবে না। দেশ ও জাতিকে আধুনিক ও সফল দেশের তালিকায় নিতে চাইলে অবশ্যই শিক্ষা খাতকে জাতি বিভাজনের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। শিক্ষায় অস্থিরতা, ধর্মীয় হানাহানি, যেকোনোভাবে বন্ধ করতে হবে। আগামী দিনের ভবিষৎ প্রজন্মকে কোনো অবস্থায় ভিন্ন ভিন্নমুখী শিক্ষা কার্যক্রমে ধাবিত করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি থেকে দেশকে পিছিয়ে রাখা কোনো অবস্থায় কারো জন্য মঙ্গলজনক হবে না।

লেখক: মাহমুদুল হক আনসারী

ট্যাগ :