চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

আনোয়ারায় বেড়িবাধঁ সংস্কারে চলছে নানান অনিয়ম, তদারকি নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-৩০ ১৫:০৫:৩৫ || আপডেট: ২০১৯-০৬-৩০ ১৫:০৫:৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম আনোয়ারা উপজেলার তিন ইউনিয়ন মিলিয়ে সাপমারা খালের দুপাশে বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ করছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২০১৭ সালের শুরুতেই টেন্ডার হলে ৪কোটি ৮৪ লক্ষ টাকার কাজটি টেন্ডারের মাধ্যমে পায় মেসার্স নুর হোসেন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি ২০১৭ সনের ২৮ জুন হয়ে চলতি ২০১৯ সনের ১৭মে তারিখের মধ্যে সম্পাদন করার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত তারা কাজ বুঝিয়ে দিতে পারেননি। বরং ঠিকাদার কোম্পানিটি বার বার আবেদন করছে আরো সময় বাড়িয়ে নেয়ার।

সরকারিভাবে প্রকল্পটি ছিল ৪কোটি ৮৪ লক্ষ টাকার। উন্নয়ন কাজটি সাপমারা খালের দুপাশ হয়ে প্রাই ১৫.২০১ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য ও টপ লেভেলে ১৪ফুট প্রস্থ, এবং বেড়িবাঁধ হইতে ১০ ফুট জায়গা খালি রেখে পাশে সরকারি জায়গা থাকলে ঐখান থেকে মাটি কাটতে পারে অন্যতায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি হলে ভূমি মালিকের সাথে কথা বলে অনুমতিক্রমে মাটি কেটে বেড়িবাঁধে দেওয়ার কথা থাকলেও সরজমিনে দেখা যায়, বিনা অনুমতিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কাটার অভিযোগ ও নানান অনিয়মের দৃশ্য। বসতভিটা, ধানি জমি, এইসব জায়গা থেকে তারা আলোচনা ছাড়াই মাটি কাটা শুরু করেন যা ১০ ফিট বা ২০ ফিট নয় জমির এক-তৃতীয়াংশ বলে দাবী ভূমি মালিকদের।

এক পর্যায়ে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক মোহাম্মদ আলম এগিয়ে এসে বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণে নানান অনিয়ম রয়েছে। যেমন বেসরকারি ভূমি থেকে বিনাঅনুমতিতে মাটি কাটা, টাকা নিয়ে সরকারি ভূমি হইতে বাহিরে মাটি বিক্রি করা, কাজ বাস্তবায়নে কর্মরত স্কেভেটর ড্রাইভার ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের চাহিদামত চাঁদা দিতে না পারলে ইচ্ছেকৃত ফসলি জমির ফসল ক্ষতি করে জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেয়া সহ আরো অহরহ অনিয়ম। আমি এ অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে আনোয়ারা-কর্নফুলীর মাননীয় সাংসদ সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এবং এবিষয়ে আরেক ভূমিক্ষতিগ্রস্হ মালিক আব্দুল হক মেম্বার জানান, আমরা সাধারণ ভূমি মালিকরা মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি মহোদয়ের কাছে গিয়েছি, ওনাকে অনিয়মের কথা জানিয়েছি। ওনি বলেছেন, অন্যায় অনিয়ম কোনভাবে বরদাস্ত করবেন না। অনিয়ম ও দূর্নীতি করলে সরাসরি পুলিশে সোপর্দ করা হবে বলে কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে উঠে আসে অন্যরকম আরেক অনিয়মের তথ্য। তারা নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের আশেপাশে করেছেন চাঁদাবাজি। যাদের মলমুত্রের পাইপ খালের সাথে, তাদের পাইপ রক্ষার জন্য ২০০-৫০০টাকা,আর খালের ভিতরে ও বাহিরে ১০-২০ ফুটের মধ্য যাদের বাড়ি রয়েছে তাদের বাড়ি রক্ষার জন্য ১০০০-২০০০ টাকা। যে টাকা ইতিমধ্যে স্কেভেটর ড্রাইভার খালের পাশের বাড়িগুলো থেকে ২০০-২০০০ টাকা তুলে নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই খালের ভিতরেই রয়েছে এইরকম আরেকটি বেড়িবাঁধ তৈরি করার মত মাটি। খালের দুপাশে আছে অনেক অবৈধ দখল যা সরকারি খাস জমি উপর। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার পাকা স্থাপনা করে ভাড়া দিয়ে হয়ে উঠছেন কোটিপতি।এইগুলি ঠিকই রয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এই মাটির উৎস থাকার পরও কাটা পরছে মানুষের ফলজ,বনজ,ঔষধি গাছপালা,এমনকি মানুষের ভিটা,বাড়ি ও আবাদি জমি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পানিউন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর সেকশন অফিসার( এসও) মানজুর এলাহি জানান, কাজে অনিয়মের অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেননি আগে। তাই তাদের দৃস্টিগোচর হয়নি।এখন যেহেতু অনিয়মের কথা আসছে এই বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে এবং ব্যাবস্হা নেয়া হবে।

এবিষয়ে জানতে চেয়ে ঠিকাদার নুর হোসেনের মুঠো ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলেও কোন সাড়া মেলেনি।

সাব ঠিকাদারদের অবিজ্ঞতা ও তাদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এক পর্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানায়, কাজ বাস্তবায়ন করছেন স্হানীয় একটি সিন্ডিকেট যাকে বলা হয় সাব ঠিকাদার।তাদের এই কাজ বাস্তবায়ন সম্পর্কে ধারণা কতটুকু আছে তা একমাত্র ঠিকাদার নুর হোসেন বলতে পারবে।

ট্যাগ :