চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছিন্নমূল মানুষের সুখ দু:খের কথা

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৮ ১৬:১৯:৩৫ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৮ ১৬:১৯:৩৫

মানুষ মানুষের জন্য। রাষ্ট্র সবার জন্য। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সব শ্রেণী পেশার মানুষের সুখ শান্তি থাকা চায়। ধনী গরিব অসহায় দরিদ্র সব মানুষ যেনো অন্তত পক্ষে নাগরিক সুবিধা নিয়ে বাঁচতে পারে সেটা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের বাউন্ডারির মধ্যে যারা বাস করবেন তারা হলো বাংলাদেশের নাগরিক।

যাদের জন্ম বাংলাদেশে, যারা দেশের ভোটার উন্নয়ন অগ্রগতির অংশীদার, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে তারাই দেশের নাগরিক। এ মানুষগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্টপোষকতা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের সমস্ত চিন্তা চেতনা কর্মসূচী বাস্তবায়নে ধনী গরিব অসহায় সকলের সমান সুবিধা থাকা চায়। ধনী যেভাবে দেশের মালিক এবং ভোটার, অসহায় গরিব, ছিন্নমূল তারাও এদেশের সমানভাবে দাবিদার। দেশের সুযোগ সুবিধা নাগরিক অধিকার ধনীদের জন্য যেভাবে গরীবের জন্য সেভাবে থাকা চায়।

বাংলাদেশে প্রতিবছর বাজেট আসে, বাজেট যায়। বাজেটের সুফল কুফল সেটা অসহায় দিনমজুর মানুষগুলো বুঝে না। তারা জানে যখন পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, পণ্যের বাজার উঠা নামা করলে তাদের তখন উপলব্দি হয় বাজেটের প্রভাব সম্পর্কে। যাই হোক বাজেটে কি হলো না হলো সেসব এখানে বলা উদ্দেশ্য নয়। এখানে মূলত ছিন্নমূল দরিদ্র অসহায় মানুষদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার চেষ্টা করছি। আসলে রাষ্ট্র প্রতিবছর বাজেটের মাধ্যমে যে লাখো কোটি টাকা খরচ করছে সেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কী সুযোগ সুবিধা আছে সেখানেই আমার বলার উদ্দেশ্য। বাজেট থেকে দেশের অসহায় মানুষগুলো কী পরিমাণ সুবিধা পাচ্ছে সেখানে চিন্তা করতে হবে। অর্ধকোটির অধিক মানুষ সারাদেশে ছিন্নমূল হিসেবে আশ্রয়হীন। যাদের নেই কোনো জমিজমা, বাড়িঘর, মাথা গোঁজাবার ঠাঁই। বিশাল এ মানুষ গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাজধানী ঢাকাছাড়া বিভিন্ন জেলা শহর ও বস্তিতে অসহায়ত্ব নিয়ে বাস করছে। এসব মানুষের মধ্যে অনেকগুলো মানুষ বয়ো:বৃদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে ফুটপাত আঙিনা অথবা কারো বারান্দায়। রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু কিছু মানুষকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলেও বিপুল সংখ্যক ওইসব মানুষ অসহায় অবস্থায় আশ্রয়হীন জীবনযাপন করে। তাদের অসহায়ত্ব আর ভিক্ষাবৃত্তি দেশের গোটা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলাকে বিদেশীদের সামনে ছোট করে রাখছে। এ বিষয়টা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা দেখলেও বাস্তবে ওইসব মানুষের আনাগোনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কমছে না। বাজেট অথবা উন্নয়ন পরিকল্পনা ওই মানুষগুলোকে মানবিক বিবেচনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে কী কর্মসূচী তাদের জন্য রয়েছে সেখানেই আমার বক্তব্য। দেশ যতই উন্নয়ন অগ্রগতিতে এগিয়ে থাকুক না কেনো, ওই শ্রেণীর মানুষগুলোকে পুনর্বাসন করা না হলে দেশের সবগুলো অগ্রগতি ম্লান হয়ে যাবে।

রাষ্ট্রের সুন্দর্য্য, শৃঙ্খলা আর অগ্রগতি সব মানুষের মধ্যে সমন্বয় ও ভাগাভাগি হতে হবে। একটি শ্রেণী এগিয়ে যাবে আর কতিপয় পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠী পিছনেই থেকে যাবে, তাহলে সমাজ বিজ্ঞানীদের আলোকে ওই সমাজকে এগিয়ে যাওয়া হিসেবে বলা যায় না। আমরা কি সকলকে নিয়ে এগিয়ে চলছি, নাকি একটি শ্রেণীকে বারবার এগিয়ে নিচ্ছি সেদিকেই চিন্তা করা দরকার।

রাষ্ট্রের সবগুলো মানুষের শৃঙ্খলা সুন্দর্য ক্ষুধা দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দিতে হবে। অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক শান্তি, অগ্রগতি সকলের জন্য সমানভাবে থাকা চায়। কেউ পাঁচতলায় আবার কারো কাছে মাথা রাখার ঠাঁই হবে না সে ধরনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কখনো সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্টা করতে পারে না। রাষ্ট্রের মানচিত্রে বসবাসকারী সব মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তির জন্য রাষ্ট্রকে কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধুমাত্র ধনী শ্রেণীর সুযোগ সৃষ্টির জন্য দেশ জন্ম হয় নি। যারা ক্ষমতায় যায়, আর থাকে তাদের সেসব বিষয় চিন্তা করা দরকার। ভোটের মালিক যেমনিভাবে জনগণ উন্নয়ন অধিকারের মালিকও অনুরূপ দেশের সব মানুষ। রাষ্ট্র সেজন্য সৃষ্টি সেভাবেই রাষ্ট্রকে চলতে হবে। অসহায় দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ যেনো বৃদ্ধি না পায় রাষ্ট্রকে সেটা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। উন্নয়ন আর সমৃদ্ধি সব মানুষের জন্য সমানভাবে হওয়া চায়। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ছিন্নমূল মানুষের উন্নয়নে বাস্তবায়ন করে তাদের জীবন মানের পরিবর্তন প্রতিষ্টা করতে হবে। তবেই রাষ্ট্র আদর্শিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

লেখক: মাহমুদুল হক আনসারী
গবেষক, প্রাবন্ধিক

ট্যাগ :