চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-৩১ ১৬:১৫:৫৫ || আপডেট: ২০১৯-০৭-৩১ ১৬:১৫:৫৫

সিটিজি নিউজ: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ৪৮৫ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ৩০ জুলাই দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে বাজেট উপস্থাপন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে চসিকের সংশোধিত বাজেট ২ হাজার ৪৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এটি বর্তমান মেয়রের শেষ ও পঞ্চম বাজেট ঘোষণা।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সঞ্চালনায় বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, জোবাইরা নার্গিস খান, ড. নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, চসিক কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়া, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশা এবং পরিবেশ, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এ বাজেট দেয়া হচ্ছে।’

এবারের বাজেটে উৎস আয় দেখানো হয়েছে ৭৩২ কোটি ২৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে বকেয়া কর ২০১ কোটি ৮৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা, হাল কর ১৪৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, অন্যান্য কর ১৩২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বিভিন্ন ফি ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, জরিমানা ৫০ লাখ টাকা, সম্পদ হতে অর্জিত ভাড়া ও আয় ৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ব্যাংক স্থিতি থেকে ৫ কোটি টাকা, বিবিধ আয় ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ভর্তুকি ২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তাছাড়া ত্রাণ সাহায্য ২০ লাখ টাকা, উন্নয়ন অনুদান ১৭০২ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস আয় ৫১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, এবারের বাজেটে ব্যয় দেখানো হয়েছে, বেতন ভাতা ও পারিশ্রমিক খাতে ২৮২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ৫৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ভাড়া-কর ও অভিকর বাবদ ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও পানি ৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, কল্যাণ ব্যয় ৩৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ডাক তার ও দুরালাপনী ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, আতিথিয়তা ও উৎসব ৫ কোটি টাকা, বীমা ৫৫ লাখ টাকা, ভ্রমণ ও যাতায়াত ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, মুদ্রণ ও মনিহারি ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ফিস, বৃত্তি ও পেশাগত ব্যয় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা, প্রশিক্ষণ ব্যয় ৮৫ লাখ টাকা, বিবিধ ব্যয় ২১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ভা-ার ৭৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ত্রাণ ব্যয় ২০ লাখ টাকা, বকেয়া দেনা ১৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, স্থায়ী সম্পদ ১১২ কোটি টাকা, উন্নয়ন (রাজস্ব ও অন্যান্য) ১৬৪ কোটি টাকা, উন্নয়ন (এডিপি ও অন্যান্য) ১৪৫২ কোটি টাকা ও অন্যান্য ব্যয় ৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, গত অর্থ বছরের আদায় টার্গেট সর্বমোট ২ হাজার ৪ শত ২৫ কোটি ৪২ লক্ষ ৮২ হাজার টাকার বিপরীতে ২ হাজার ৪৫ কোটি ৫১ লক্ষ ৯৮ টাকা আদায় হয়। যা লক্ষ্যের প্রায় ৮৪.৩৩ শতাংশ। এবার বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সিটি মেয়র তার বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো খাতে কর বৃদ্ধি করা হয়নি। নগরবাসীর আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশা ও পরিবেশ, প্রযুক্তি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাস্তবায়নযোগ্য ও বিশ্বমানের নগর প্রতিষ্ঠার এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য।

এই বাজেটে উন্নয়ন অনুদান ও কর আদায়কে উল্লেখযোগ্য খাত হিসেবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে আয় খাতে নিজস্ব উৎস থেকে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৪৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, উন্নয়ন অনুদান ১৫৫৫ কোটি ৮৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৪০ কোটি ৮৭লাখ টাকা। ব্যয় খাতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৩৬১ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, উন্নয়ন খাতে রাজস্ব তহবিল অন্যান্য খাতে ৫৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, এডিপি ও অন্যান্য খাত থেকে ১৫০৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা, স্থায়ী সম্পদ ৩১ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বকেয়া দেনা ৫৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

সিটি মেয়র বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নগরবাসীর সুখ-স্বাচ্ছ্যন্দের জন্য মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতি দ্বারা আলোকায়ন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা প্রদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণমূলক ব্যয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতাদি নির্বাহ করতেই সিংহভাগ ব্যয় হয়। একটি সুদৃঢ় আর্থিক বুনিয়াদ সৃষ্টি করতে না পারলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ-দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর হয়ে যায়। জনগণের প্রত্যাশিত সেবা এবং আবশ্যকীয় করণীয় উন্নয়ন কর্মকা-সমূহ নিশ্চিত করার জন্য নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরবাসীকে প্রত্যাশিত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য সবচেয়ে বড় বাধা অনুমোদিত চাকুরিবিধি না থাকা। ১৯৮৮ সালের জনবল কাঠামোর পদের বিপরীতে ২০১৯ সালে এপ্রিলে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা-২০১৯ অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যা গত ১১ জুলাই গেজেটভুক্ত হয়। এটা সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান পরিষদের তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মপরিধি বর্তমানে বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রমবর্ধমান চাহিদার আলোকে ৯,৬০৪ জনের একটি পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। নাগরিকসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে ইতোমধ্যে সিটিজেন চার্টার প্রণয়নপূর্বক তা কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামকে একটি বিশ্বমানের নগর হিসেবে গড়ে তোলা তার স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে স্মার্ট সিটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭০ কোটি টাকার ডিপিপি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে জমা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়য়িত হলে দেশের প্রথম স্মার্ট নগর হিসেবে চট্টগ্রাম আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মেয়র।

সিটি মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিবিধ কাজের বাইরেও শিক্ষা খাতে ব্যাপক কর্মকা- পরিচালনা করে থাকে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শিক্ষা খাতে প্রতিবছর ৩৬ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ১৩ কোটিসহ এ দুটি খাতে সর্বমোট ৪৯ কোটি ভর্তুকি প্রদান করে যার নজির বাংলাদেশের আর কোনো সিটি কর্পোরেশনের নেই।

নগরীতে স্লটার হাউজ নির্মাণের কথা উল্লেখ সিটি মেয়র বলেন, দ্রুতসময়ের মধ্যে স্লটার নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এই স্লটার হাউজ হবে এশিয়ার বৃহত্তম আধুনিক কসাইখানা। নগরীর চান্দগাঁও পুরাতন থানা এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের ৮৮শতক জায়গার ওপর এ কসাইখানা নির্মিত হবে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পশু জবাই ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় দেশের অন্যান্য মেগা সিটির চেয়েও একধাপ এগিয়ে যাবে চট্টগ্রাম মহানগর।

ট্যাগ :