চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঈদের ছুটি শেষ হলেও, শেষ হয়নি বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১৮ ১৪:০১:১০ || আপডেট: ২০১৯-০৮-১৮ ১৪:০১:১০

এ.এস.রানা: শনিবার (১৭ আগস্ট) ঈদ শেষ করে মানুষ যখন শ্বস্তি নিয়ে নিজ কর্মস্থলে ফিরছে তখনই মানুষ পড়ছে বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য। হচ্ছে পরিবহনের মানুষের সাথে সাধারণ মানুষের বাড়াবাড়ি, হাতাহাতি। এইরকম অভিযোগ গুলি কানে আসতেই বিআরটিএ গিয়ে ভোগান্তি মানুষের পাশে দাড়িয়ে পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতের পরিচালনায় ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম.মনজুরুল হক।

এই অভিযানে বাড়তি ভাড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ১৩টি বাসকে বাড়তি ভাড়া নেয়া ও অন্যান্য অপরাধে মোট ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

যা দেখার বিষয় ছিল এর মধ্যে নতুন ব্রিজের অভিযানে বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, কেরানিহাট ও আমিরাবাদসহ বিভিন্ন রুটের ৭টি বাসকে জরিমানা করা হয়েছে। আরো দৃষ্টি গোচরের বিষয় হিসাবে নেয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া,অতিরিক্ত যাত্রীবহন,এলোপাতাড়ি পার্কিং করায় সৃষ্ট যানযট,ডকুমেন্টস ফেইল গাড়িগুলি এখন সব রাস্তায়,ফিটনেস বিহীন গাড়িগুলি যেন মিছিল করছে সদর রাস্তায়।

এদিকে আবার,৩নং রুটের মিনিবাস গুলি ফতেয়াবাদ পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও না গিয়ে অক্সিজেন মোড় থেকে মিনিবাস গুলি ঘুরিয়ে দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা এবং মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন এর পর আর যেতে রাজি না হয়ে আবার ঘুরিয়ে মুরাদপুর আসা সহ, ৩ নং রুটের মোট ৬টি বাসকে বিভন্ন অংকে জরিমানা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে,হাটহাজারী রুটে অভিযান চলাকালীন হঠাৎ ম্যাজিস্ট্রেট এর ব্যাক্তিগত মোবাইলে অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে।কেউ কিছু বুঝে না উঠতেই রওয়ানা নতুন ব্রীজের উদ্দেশ্যে বলে জানা যায়।পুরাপুরি না যেতেই আদালত পরিচালনা শুরু করেন টার্মিনালের প্রবেশদ্বারে।

এ ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম.মনজুরুল হকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, হঠাৎ আমার মোবাইলে কফিল উদ্দিন নামে এক ভদ্রলোক কল দিয়ে অভিযোগ করেন যে, বাঁশখালীর একটি বাস গুনাগরী থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছে ভাড়া নিয়েছে ১০০ টাকা করে যেখানে নিয়মিত ভাড়া ৫৫ টাকা।শুধু তাই নয় স্পেশাল, সুপার বললেও তারা লোকাল করে করে আসছে। আমি কল দাতাকে বললাম, আপনারা আসতে থাকেন। আমি আছি। কাছাকাছি আসলে আমাকে ফোন দিয়েন। সে সময় আমি ছিলাম হাটহাজারী রুটে, বালুচড়া এলাকায়। বাড়তি ভাড়ার অভিযোগে ৩ নং বাস এবং ফটিকছড়ি, রাউজানের বাসগুলো চেক করছিলাম। এর মধ্যে উক্ত যাত্রী ফোন করে জানালেন তাদের বাস নতুন ব্রিজ টোল প্লাজা চলে এসেছে। আমি তখন হাটহাজারী রুটের অভিযান সংক্ষিপ্ত করে নতুন ব্রিজের দিকে। মুরাদপুর গিয়ে আমি উক্ত যাত্রীকে ফোন দিলাম তাদের অবস্থান জানতে। তিনি জানালেন গাড়ি একটু পরেই বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে প্রবেশ করবে। আমি ছুট লাগালাম টার্মিনালের দিকে। টার্মিনালে পৌঁছে যাত্রীকে ফোন করে বাসের অবস্থান নিশ্চিত হলাম। ততক্ষণে বাসের অন্যান্য যাত্রীরা নেমে পড়েছেন। ত্বরিত আমার গাড়ি থেকে নেমে বাসে উঠে দেখি, চালক আর দুই হেলপার মিলে টাকা গুনছে। প্রথমে অভিযোগকারী যাত্রীর বাড়তি ভাড়াটুকু ফেরত নিয়ে দিলাম। পরে দেখা গেলো বাসের সব ডকুমেন্টস ৫/৬ বছর ধরে ফেল। ফলাফল, বাসটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং বাসটি জব্দ করে চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসটির কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মতো। সরকারি সব বকেয়া পরিশোধের পর বাসটি ছাড়া হবে।এর পরে আরো কিছুক্ষণ ধরে নতুন ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ট্যাগ :