চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ভেজাল ওষুধ বিক্রি করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত : হাইকোর্ট

প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৯ ১৬:৪৬:০০ || আপডেট: ২০১৯-১১-১৯ ১৬:৪৬:০০

ডেস্ক রিপোর্ট: কেউ ভেজাল ওষুধ বিক্রি করলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ফার্মেসিতে ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ চেয়ে করা এক রিটের শুনানিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলেন।

এ সময় আদালত আরো বলেন, কোনো ফার্মেসিতে ভেজাল ওষুধ পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের দেয়া সাত দিনের সাজা একেবারেই কম হয়ে যাচ্ছে। তাই একবার পাওয়ার পর যদি দ্বিতীয়বার কোনো ফার্মেসিতে ভেজাল ওষুধ পাওয়া যায় তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হবে। যেখানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার গত দুই মাসের মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একটি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন।

সে প্রতিবেদন অনুযায়ী এ আইনজীবী আদালতে বলেন, গত দুই মাসে ১৩ হাজার ৫৯৩টি ফার্মেসি পরিদর্শন করে মোবাইল কোর্টে ৫৭২টি মামলা করা হয়। এতে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ২টি ফার্মেসি সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে ৩৪ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৪৩ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে।

আদালতে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির পক্ষের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে চলা অভিযানের সঙ্গে আমরা একমত। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ যেন বাজারে না থাকে এটা আমরাও চাই। এরপর আদালত প্রতিটি ওষুধের স্ট্রিপে (পাতায়) বাংলায় নাম, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্ট ভাবে লেখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন। এরপর ঔষধ শিল্প সমিতির পক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ‘ফ্যাক্টরি মালিকদের সঙ্গে এ নিয়ে বসে আলোচনা করে একটি প্রতিবেদন আদালতে দিবো।’

এরপর আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি।

এর আগে গত ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়।

এ বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর-প্রতিবেদন যুক্ত করে জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এর নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন সোমবার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সারাদেশের বাজার থেকে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার, জব্দ ও ধংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

সে সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহকারী, সংরক্ষণ ও বিপণনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ‍নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।

ট্যাগ :