চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ মে ২০২১

নাসিরনগর হামলা: ২২৮ জনকে আসামি করে এক মামলার অভিযোগপত্র

প্রকাশ: ২০১৭-১২-১১ ১৩:০২:০৮ || আপডেট: ২০১৭-১২-১১ ১৩:০২:০৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, সিটিজি নিউজ ডেস্ক:
Published-2017-12-11 19:1:14.0 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের এক মামলায় ২২৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক ফারজানা আহমেদের কাছে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. মাহাবুবুর রহমান জানান।
নাসিরনগর গৌরমন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে এ মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শওকত হোসেন ২২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এ অভিযোগপত্র দেন বলে জানান তিনি।
আসামিদের মধ্যে নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ প্রচার সম্পাদক মো. আবুল হাসেম, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্ত চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক মিয়া, চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরুজ আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম চকদার, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মো. জামাল, হরিপুর গ্রামের কাপ্তান মিয়া, বিল্লাল হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর আলমের নাম রয়েছে।
এর মধ্যে আবুল হাসেম ও আব্দুল হান্নান ছাড়া বাকিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়েছেন।
মাহাবুবুর রহমান বলেন, রোববার অভিযোগপত্রের কপি পাওয়া গেলেও বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করা হয়নি। ত্রুটি সংশোধন এবং অভিযোগপত্রের ব্রিফ তৈরি করে সোমবার দুপুরে বিচারকের কাছে দাখিল করা হয়েছে।
নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস নামে এক জেলে ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্ট করেছে অভিযোগ তুলে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর তাকে পিটিয়ে পুলিশে দেয় একদল যুবক।
পরদিন (৩০ অক্টোবর) এলাকায় মাইকিং করে উপজেলা সদরে পৃথক দুইটি সমাবেশ থেকে ১৫টি মন্দির, শতাধিক ঘরবাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরপর ৪ নভেম্বর ভোরে ও ১৩ নভেম্বর ভোরে আবার উপজেলা সদরে হিন্দুদের অন্তত ছয়টি ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় মোট আটটি মামলা দায়ের করা হয়। বাকি সাতটি মামলার তদন্ত এখনও চলছে।
দলীয় বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সমর্থকরা এ হামলার নেপথ্যে ছিলেন বলে স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য।
নাসিরনগরের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের সঙ্গে মোকতাদির ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের দ্বন্দ্বই এ হামলার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অনুসন্ধানে।
এই অনুসন্ধানে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখিকে হামলার হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। পরবর্তীতে আঁখিকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

ট্যাগ :